২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার ২৯৪টি আসনের মধ্যে সবথেকে বড় ‘মহাযুদ্ধ’ হতে চলেছে ভবানীপুরে। একদিকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরের মাটিতে এই দুই হেভিওয়েটের লড়াই ঘিরে টগবগ করে ফুটছে রাজ্য রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দুর মোকাবিলা করতে এবং খাস তালুক রক্ষা করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতায় সুব্রত বক্সীর অফিসে এক জরুরি রণকৌশল বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।
তৃণমূল সূত্রের খবর, এই বৈঠকে ভবানীপুর কেন্দ্রের অন্তর্গত ৮ জন কাউন্সিলরকে তলব করা হয়েছিল। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই বৈঠকে প্রতিটি ওয়ার্ডের বুথ ভিত্তিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখেন সুব্রত বক্সী। বিশেষ করে যে ওয়ার্ডগুলোতে বিজেপি গত কয়েকটি নির্বাচনে লিড পেয়েছে, সেখানে শুভেন্দুর প্রভাব রুখতে বিশেষ ছক কষা হয়েছে। কাউন্সিলরদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জনসংযোগের ক্ষেত্রে কোনো ফাঁক না থাকে।
শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে ভবানীপুরকে পাখির চোখ করেছেন, তাতে বিন্দুমাত্র জমি ছাড়তে নারাজ শাসকদল। নবান্ন থেকে মমতার সেই ‘ফোন’ আর সুব্রত বক্সীর অফিসে এই বৈঠক—সব মিলিয়ে পরিষ্কার যে, ভবানীপুর জয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে তৃণমূল। প্রতিটি ওয়ার্ডের ৮ জন ‘সেনাপতি’কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে এলাকাভিত্তিক ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমন করে মমতার লিড নিশ্চিত করা যায়। লড়াই এখন কেবল ভোটের নয়, দুই মহারথীর রাজনৈতিক অস্তিত্বের।