২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই সবার নজর দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে। কারণ এখানে মুখোমুখি লড়াই করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ভোটগ্রহণের আগেই এই কেন্দ্রের ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার পর দেখা যাচ্ছে, ভবানীপুরের প্রায় ২৫ শতাংশ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
কমিশনের দেওয়া ‘হেভিওয়েট’ হিসেব: নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোটার তালিকার ব্যাপক শুদ্ধিকরণ করা হয়েছে। একনজরে দেখে নিন সেই পরিসংখ্যান:
মোট কত নাম বাদ গেল? SIR প্রক্রিয়ার আগে ভবানীপুরে ভোটার সংখ্যা ছিল ২,০৬,২৯৫ জন। সেখান থেকে মোট ৫১,০০৪ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
বাদ যাওয়ার কারণ: কমিশন জানিয়েছে, অনুপস্থিত (Absent), স্থানান্তরিত (Shifted), মৃত (Deceased), একই ব্যক্তির একাধিক নাম (Duplicate) এবং ম্যাপিং সমস্যার কারণে এই বিপুল সংখ্যক নাম সরানো হয়েছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় দফার কাটছাঁট: প্রথম দফায় ৪৪,৭৮৭টি নাম সরানো হয়েছিল। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় আরও ২,৩৪২টি নাম কাটা যায়।
বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা (Adjudication): প্রায় ১৪,১৫৪ জন ভোটারের নাম নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৩,৫০০ নাম শেষ পর্যন্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে।
তৃণমূলের অভিযোগ ও রাজনৈতিক উত্তাপ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিপুল পরিমাণ নাম কাটাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবেই দেখছেন। সম্প্রতি এক সভায় তিনি হুঙ্কার দিয়েছেন, “ভোটার তালিকা থেকে ৩০ হাজার নাম কেটে দিলেও আমি ভবানীপুর থেকে জিতবই। ভোটার যদি একজনও থাকে, তাতেও আমি জিতব।” তৃণমূলের দাবি, পরিকল্পনা করে নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি এবং শুভেন্দু অধিকারীর শিবিরের দাবি— এতদিন ভবানীপুরে হাজার হাজার ‘ভুয়া’ ভোটার ছিল, যা দিয়ে ভোট বৈতরণী পার করত তৃণমূল। কমিশনের এই পদক্ষেপকে তাঁরা স্বচ্ছ নির্বাচনের লক্ষ্যে বড় জয় হিসেবে দেখছেন।
কেন এই সংশোধন গুরুত্বপূর্ণ? ভবানীপুর কেন্দ্রটি বরাবরই মার্জিনাল লড়াইয়ের সাক্ষী থেকেছে। ৫১ হাজার ভোটার কমে যাওয়ার অর্থ হলো, বর্তমান ভোটারদের প্রতি একজনে চারজন আর ভোট দিতে পারবেন না। এই বিপুল পরিবর্তন নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





