হাজার বছর ধরে সামাজিক ও শিক্ষার নিরিখে অগ্রগণ্য হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণ সমাজ কি এবার ‘রাজনৈতিকভাবে সংখ্যালঘু’ তকমা পেতে পারে? ভারতের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা করে এমনই এক সংবেদনশীল বিষয় খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। উচ্চবর্ণের প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরে ব্রাহ্মণদের প্রতিনিধিত্ব ক্রমশ কমছে—এই যুক্তিতেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ‘ইউথ ফর ইকুয়ালিটি ফাউন্ডেশন’ নামক এক সংস্থা। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মামলাটি গ্রহণ করেছে, যা ভবিষ্যতে দেশের সংরক্ষণ নীতিতে বড়সড় রদবদল আনতে পারে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক অনগ্রসরতা: মূলত মহারাষ্ট্রের স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। অতীতে মহারাষ্ট্রে ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত আমলা জয়ন্তকুমার বান্থিয়ার নেতৃত্বাধীন কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক অনগ্রসরতার সুবিধা দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাকারীরা সেই বান্থিয়া কমিটির রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর হওয়া আর রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা—এক বিষয় নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে অসংরক্ষিত উচ্চবর্ণের বিশেষ করে ব্রাহ্মণদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব তলানিতে ঠেকেছে, তাই তাঁদেরই ‘রাজনৈতিক অনগ্রসর শ্রেণি’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: শীর্ষ আদালত ২০১০ সালের ‘কৃষ্ণামূর্তি বনাম কেন্দ্রীয় সরকার’ মামলার রেফারেন্স টেনে জানিয়েছে যে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা মানেই রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়া নয়। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রের আঞ্চলিক নির্বাচন সংক্রান্ত বেশ কিছু মামলা ইতিমধ্যেই বিচারাধীন। এই নতুন মামলাটিকেও সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিস পাঠিয়েছে এবং একটি নতুন কমিটি গঠনের আর্জি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।
যদি শেষ পর্যন্ত ব্রাহ্মণ বা উচ্চবর্ণের কোনো অংশকে ‘রাজনৈতিক অনগ্রসর’ বা ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তবে তা ভারতীয় রাজনীতিতে এক বিশাল ভূমিকম্প তৈরি করবে। অসংরক্ষিত তকমা ঘুচিয়ে ক্ষমতার অলিন্দে জায়গা করে নেওয়ার এই লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।