ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স শূন্য, স্বামীর চিকিৎসার খরচ চালাতে টিউশনি করতেন স্ত্রী! ‘দেবদাস’ অভিনেতার জীবনযুদ্ধের কাহিনী চোখে জল আনবে

রুপোলি পর্দার চকমকে জগতের আড়ালে যে কতটা অন্ধকার এবং জীবনযুদ্ধ লুকিয়ে থাকে, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ বর্ষীয়ান অভিনেতা মনোজ যোশী। আজ তিনি সাফল্যের শিখরে থাকলেও, এক সময় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে হয়েছিল তাঁকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা শেয়ার করেছেন অভিনেতা, যা শুনে কার্যত স্তব্ধ অনুগামীরা।

‘দেবদাস’-এর সেটে সেই অভিশপ্ত মুহূর্ত সাল ২০০১। সঞ্জয় লীলা বনশালির মেগা প্রজেক্ট ‘দেবদাস’-এর শুটিং চলছিল। সেই সময়ই মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন মনোজ যোশী। অভিনেতা জানান, অসুস্থতা এতটাই গুরুতর ছিল যে তিনি টানা চার দিন কোমায় আচ্ছন্ন ছিলেন। এখানেই শেষ নয়, কোমা থেকে ফেরার পর দীর্ঘ ১৯ দিন তিনি চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিছুই দেখতে পেতেন না তিনি। অভিনেতা নিজেই এই সময়টিকে তাঁর ‘পুনর্জন্ম’ বলে অভিহিত করেছেন।

যখন ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ছিল শূন্য কেরিয়ারের সেই কঠিন সময়ে শুধু শারীরিক অসুস্থতা নয়, চরম আর্থিক সংকটের মুখেও পড়তে হয়েছিল যোশী পরিবারকে। হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে অভিনেতার জমানো সমস্ত টাকা ফুরিয়ে গিয়েছিল। মনোজ যোশী আবেগপ্রবণ হয়ে জানান, “হাসপাতালে থাকার সময় আমার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স শূন্য হয়ে গিয়েছিল। আমার স্ত্রী তখন সংসার সামলাতে এবং আমার চিকিৎসার খরচ জোগাতে বাড়িতে ছাত্র পড়ানো (টিউশনি) শুরু করেছিলেন।” স্ত্রীর এই অদম্য লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে আজও গলা বুজে আসে অভিনেতার।

খলনায়ক হিসেবে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন সুস্থ হয়ে ওঠার পর ২০০৩ সালে ‘কেহতা হ্যায় দিল’ ধারাবাহিকের হাত ধরে ছোটপর্দায় কামব্যাক করেন তিনি। শুরুতে মাত্র চার দিনের জন্য খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের কথা থাকলেও, তাঁর দুর্দান্ত অভিনয় দক্ষতার জেরে সেই চরিত্রটিই ধারাবাহিকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ‘হেরা ফেরি’, ‘হাঙ্গামা’, ‘গোলমাল’-এর মতো অসংখ্য সুপারহিট ছবিতে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে মনোজ যোশীর এই সংগ্রামের গল্প ভাইরাল। নেটিজেনদের মতে, পর্দার হিরো বা ভিলেন হিসেবে নয়, জীবনের আসল লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েই তিনি আজ কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy