ব্যবসায়ীদের ফের রাজ্যে ফেরার আহ্বান শুভেন্দুর, কলকাতা হবে দেশের ‘আধ্যাত্মিক রাজধানী’

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী প্রকল্প এবং প্রশাসনিক সংস্কারের পথে হাঁটছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার দলের আয়োজিত ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা’ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি ফের একবার দৃঢ়তার সঙ্গে জানালেন, ইস্তেহারে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি একে একে পূরণ করা হচ্ছে এবং মানুষের স্বার্থে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তিনি প্রস্তুত।

শপথ বাস্তবায়নের পথে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যেদিন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আমাকে এই গুরুদায়িত্ব দিয়েছিল, সেদিনই আমি শপথ নিয়েছিলাম যে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেখানো পথে চলে আমি মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব।” দলের রাজ্যস্তরের এই কর্মশালায় তিনি কর্মীদেরও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জেলার কর্মীদের প্রতি মাসে দু’বার রাজ্য অফিসে এসে কোর কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছেন, যাতে সংগঠনের সঙ্গে প্রশাসনের মেলবন্ধন আরও শক্তিশালী হয়।

অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত সুরক্ষা সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন ফের কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চুরি ঠেকাতে বিএসএফ-এর (BSF) হাতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি কড়া অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তাদের ওষুধ বা খাবার দিয়ে আর অতিথি আপ্যায়ন করব না। যারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে এসেছে, তাদের চলে যেতে বলা হয়েছে।” দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্যের সুরক্ষাকে যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, তা এদিন আবারও স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ বার্তা কলকাতার সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে নতুন করে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রাক্তন ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তাঁর আবেদন, “আপনারা যারা রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তারা ফিরে আসুন। বাংলা শুধু দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী নয়, এটি একটি আধ্যাত্মিক রাজধানীও বটে।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার রাজ্যের সমস্ত ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করবে।

উন্নয়নের জোয়ার সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মিটিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে আয়ুষ্মান ভারত ও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পগুলোতে নতুন গতি আনতে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে তিনি যে আপসহীন, তা তাঁর সাম্প্রতিক প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট।

জনসাধারণের আস্থা অর্জন এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলা গড়ার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ইতিবাচক প্রয়াস রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy