মধ্যপ্রদেশের নয়াগাঁও অঞ্চলে বরেলী-পিপারিয়া জাতীয় সড়কে সেতু ধসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল। এতে প্রাক্তন সিআরপিএফ জওয়ান দেবেন্দ্র সিংহ ধকড় (৩৫)-সহ মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে ভোপালের এইমস (AIIMS)-এ দেবেন্দ্রকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। একদিন আগেই শিবানী গ্রামে তিনি তাঁর বোনের বিয়েতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। বোনকে শ্বশুরবাড়ির পথে রওনা করিয়ে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। দেবেন্দ্রর অকালমৃত্যুতে তাঁর পরিবার শোকস্তব্ধ। তাঁর স্ত্রী ভূমি রাজস্ব বিভাগের কর্মী।
দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা:
সোমবার সকালে যখন মেরামতীর কাজ চলছিল, তখনই ধসে পড়ে এই পুরোনো নয়াগাঁও সেতুটি (যা ১৯৮০ সালে নির্মিত)। সেই সময় দু’টি মোটরবাইকে চার আরোহী সেতুর উপর দিয়ে যাচ্ছিলেন। এক মজুর-সহ ওই চারজনের মৃত্যু হয়। আরও ছয়জন মজুর কোনওমতে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান, কিন্তু একজন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে গিয়েছিলেন।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ:
এই দুর্ঘটনার পরই সেতুটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং শুরু হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত।
মধ্যপ্রদেশ সড়ক উন্নয়ন কর্পোরেশনের বরেলী বিভাগের ম্যানেজার এ এ খানকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
তৎকালীন ডিভিশনাল ম্যানেজার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
চিফ ইঞ্জিনিয়ারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
১৯৮০ সালে নির্মিত এই সেতু নিয়ে রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির অভিযোগ অনেক দিন ধরেই উঠছিল। এই ঘটনা নিয়ে এখন রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।