২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় বিদ্রোহের সুর। ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বেলডাঙা কাণ্ডে নাম জড়ানোর পর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল, যা শনিবার চরমে পৌঁছাল।
“পিসি-ভাইপোকে হারাব”: নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ
সম্প্রতি বেলডাঙা কাণ্ড নিয়ে নাম না করে হুমায়ুন কবীরকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পাল্টা জবাবে মেজাজ হারিয়ে হুমায়ুন বলেন:
-
“রেজিনগর বা বেলডাঙার যেকোনো আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়িয়ে দেখুন। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, তাঁদের অন্তত ৩০ হাজার ভোটে হারিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেব।”
-
তিনি আরও দাবি করেন যে, মুর্শিদাবাদের মাটিতে তাঁর যে জনভিত্তি রয়েছে, তা কোনো ‘হাইকমান্ড’-এর দয়ায় নয়।
বেলডাঙা কাণ্ড ও অভিষেকের তোপ
গত কয়েক মাস ধরে বেলডাঙার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও অশান্তি নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সাম্প্রতিক সাংগঠনিক বৈঠকে বার্তা দিয়েছিলেন যে, দলের কোনো নেতার উস্কানিতে অশান্তি ছড়ালে দল তা বরদাস্ত করবে না। যদিও সরাসরি নাম নেওয়া হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহল নিশ্চিত ছিল যে তিরের নিশানায় ছিলেন হুমায়ুনই।
নিজেকে নির্দোষ দাবি হুমায়ুনের
নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বিধায়ক বলেন, “বেলডাঙা কাণ্ডে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমি নির্দোষ। দলের ভেতর থেকেই ষড়যন্ত্র করে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, দল যদি তাঁকে গুরুত্ব না দেয়, তবে তিনি নিজের রাস্তা দেখে নিতে পিছপা হবেন না।
হুমায়ুন কবীরের এই ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলে প্রবল আলোড়ন তৈরি করেছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে দলের এক প্রভাবশালী বিধায়কের এমন সরাসরি চ্যালেঞ্জ মমতা-অভিষেককে অস্বস্তিতে ফেলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলে।