ভারতের সিলিকন ভ্যালি বেঙ্গালুরুতে কালবৈশাখীর বীভৎস রূপ। বুধবার বিকেলে শুরু হওয়া রেকর্ড ভাঙা প্রবল বৃষ্টিতে শহরের ব্যস্ততম এলাকা শিবাজিনগরে ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। একটি সরকারি হাসপাতালের সীমানা-প্রাচীর ধসে পড়ে ফুটপাতে থাকা অন্তত সাত জন হকারের মর্মান্তিক মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা? স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবাজিনগর এলাকার ওই হাসপাতালের সীমানা-প্রাচীর সংলগ্ন ফুটপাতে দীর্ঘদিন ধরে ছোটখাটো দোকান ও পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করতেন একদল হকার। আজ বিকেলে আচমকা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে এলাকাটি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বৃষ্টির দাপটে এবং মাটির ক্ষয়ে হাসপাতালের পুরনো দেওয়ালটি হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ফুটপাতের ওপর ভেঙে পড়ে।
উদ্ধারকাজে ব্যাপক তৎপরতা: প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার সময় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন হকার ওই দেওয়ালের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। ভারী বৃষ্টি ও জমা জলের কারণে উদ্ধারকাজে ব্যাহত হলেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।
নিহতদের পরিচয়: এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত না করা হলেও, মৃত ও নিখোঁজরা সকলেই ওই এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী বলে জানা গিয়েছে। আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান, “সবকিছু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে গেল। চোখের সামনে দেওয়ালটা মানুষের ওপর পড়ে যেতে দেখলাম, চিৎকার করার সময়টুকুও পাওয়া যায়নি।”
পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ: এই দুর্ঘটনার পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শিবাজিনগর এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাসপাতালের ওই দেওয়ালটি আগে থেকেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। পুরসভাকে একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই গাফিলতির কারণেই সাতটি প্রাণ চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে দাবি করছেন ক্ষুব্ধ জনতা।
বেঙ্গালুরুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর শহরের অন্যান্য জরাজীর্ণ প্রাচীর ও বাসস্ট্যান্ডগুলোর সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।





