২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বাংলার রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। রাজ্য বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি সংঘাতে নামল শাসক ও বিরোধী শিবির। একদিকে তৃণমূল যখন এই প্রকল্পকে যুবসমাজের রক্ষাকবচ হিসেবে প্রচার করছে, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতা তমোঘ্ন ঘোষ এই প্রকল্পকে ‘ভিক্ষা’ বলে কটাক্ষ করে বেকারদের স্থায়ী চাকরির দাবিতে সরব হয়েছেন।
কী এই যুবসাথী প্রকল্প? সম্প্রতি রাজ্য বাজেটে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক পাস বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসিক ১,৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩০ লক্ষ যুবক-যুবতী উপকৃত হবেন। আগামী ১৫ আগস্ট থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবেই এটিকে আনা হয়েছে।
শুভেন্দু-তমোঘ্নর কড়া আক্রমণ: এই প্রকল্পের ঘোষণা হতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা গেছে বিজেপি নেতৃত্বকে। শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষিত বেকারদের হাতে কাজ তুলে দিতে ব্যর্থ। তাই ভোটের আগে ১৫০০ টাকার টোপ দিয়ে তাঁদের অপমান করছেন।” তাঁর মতে, রাজ্যের যুবকরা ভাতা বা ভিক্ষা নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্মানজনক স্থায়ী চাকরি চান। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা তমোঘ্ন ঘোষও সুর চড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজ্যের কলকারখানা বন্ধ, নিয়োগ দুর্নীতিতে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী রাস্তায় বসে কাঁদছেন। আর মমতা সরকার উন্নয়নের নামে কেবল নাম বদলে পুরনো মদ নতুন বোতলে ভরছে।”
তৃণমূলের পাল্টা জবাব: বিজেপির এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি তৃণমূল কংগ্রেসও। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, কেন্দ্র যখন রেলে নিয়োগ বন্ধ করে দিচ্ছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বাংলার যুবকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে ২০২৬-এর ভোট বৈতরণী পার করতে এই ‘যুবসাথী’ কতটা কাজে লাগে, এখন সেটাই দেখার।