বেআইনি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে ‘খুন’! ব্যারাকপুরের সেই দাপুটে কাউন্সিলর ৬ বছরের জন্য বহিষ্কৃত

প্রতিবেশীর বেআইনি নির্মাণের প্রতিবাদ জানানোই কি কাল হলো ৮১ বছরের বৃদ্ধের? উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার মণিরামপুর এলাকায় এক বৃদ্ধের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি। অভিযোগ, অভিযোগকারী বৃদ্ধ তুলসীচরণ অধিকারিককে বেধড়ক মারধর ও পেটে লাথি মারেন স্থানীয় ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন ভট্টাচার্য। লাথি মারার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই বৃদ্ধ ‘হার্টফেল’ করে মারা যান বলে অভিযোগ। এই নজিরবিহীন ঘটনায় অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি রবীন ভট্টাচার্যকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড বা বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস।

ঠিক কী ঘটেছিল? মণিরামপুরের বাসিন্দা তুলসীচরণ অধিকারিক এলাকার একটি বেআইনি নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়ে পুরসভায় চিঠি দিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই আক্রোশেই রবিবার বৃদ্ধের বাড়িতে চড়াও হন কাউন্সিলর রবীন ভট্টাচার্য। শুরু হয় বাবা ও ছেলের সঙ্গে কাউন্সিলরের তুমুল বচসা। অভিযোগ উঠেছে, বচসা চলাকালীন আইনজীবী-কাউন্সিলর রবীন ভট্টাচার্য ৮১ বছরের বৃদ্ধের পেটে সজোরে লাথি মারেন। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তৃণমূলের কড়া অবস্থান: ঘটনার খবর পৌঁছাতেই এলাকায় যান বিধায়ক পার্থ ভৌমিক। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “অত্যন্ত নিন্দনীয় ও মর্মান্তিক ঘটনা। দল এই গুন্ডামি বরদাস্ত করবে না।” বিধায়ক নিজেই ঘোষণা করেন যে, রবীন ভট্টাচার্যকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হলো। পার্থবাবুর কথায়, “নিহত বৃদ্ধ অত্যন্ত সজ্জন মানুষ ছিলেন। দুই বাড়ির বিবাদের জেরে কাউন্সিলরের এমন আচরণ দল সমর্থন করে না।”

তদন্তে ব্যারাকপুর পুলিশ: বিকেলেই কাউন্সিলর রবীন ভট্টাচার্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। দফায় দফায় জেরার পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বৃদ্ধের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে পেটে আঘাতের কারণেই হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কি না। আপাতত গারদেই রাত কাটবে দাপুটে এই নেতার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy