বাংলার রাজনৈতিক আঙিনায় এক অভাবনীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। যে লাল দুর্গকে বছরের পর বছর আগলে রেখেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সেই দুর্গের অন্দরেই এবার উড়ল গেরুয়া পতাকা। বুদ্ধবাবুর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সারথি ও গাড়ি চালক মহম্মদ ওসমানের পরিবারে কার্যত রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে গেল। ওসমানের বড় ছেলে জামশেদ আলি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন বিজেপিতে।
ছেলের হাতে পদ্ম পতাকা: মহম্মদ ওসমান নিজে বামপন্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও, তাঁর বড় ছেলে জামশেদ আলি বেছে নিলেন ভিন্ন পথ। বিজেপি শিবিরের দাবি, বর্তমান সরকারের কাজ এবং কেন্দ্রের উন্নয়নে উদ্বুদ্ধ হয়েই জামশেদ গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই তাঁর হাতে পতাকা তুলে দেওয়া হয়।
আবেগ বনাম আদর্শ: বাম জমানার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী ওসমানের ঘরে এই পরিবর্তন রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মহম্মদ ওসমান নিজে বিজেপিতে যোগ না দিলেও, তাঁর ছেলের এই সিদ্ধান্ত আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের জন্য এক বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
তৃণমূল ও বামেদের প্রতিক্রিয়া: এই যোগদানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, “মানুষ এখন বুঝতে পারছে আসল উন্নয়ন কোথায়।” অন্যদিকে, বাম শিবিরের মতে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এর সঙ্গে বাম আদর্শের কোনো সম্পর্ক নেই।
কেন এই দলবদল? জামশেদ আলি জানিয়েছেন, তিনি কোনো ক্ষোভ থেকে নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন দিশা খুঁজতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
লাল দুর্গের অন্দরে গেরুয়া শিবিরের এই নিঃশব্দ প্রবেশ আগামী নির্বাচনে কোনো বড় প্রভাব ফেলবে কি না, এখন সেটাই দেখার।





