বুকের বাঁ-দিক ফুঁড়ে বেরিয়ে গেছে বুলেট! ময়নাতদন্তে চন্দ্রনাথের মৃত্যুর যে বীভৎস রূপ এল সামনে, তাতে শিউরে উঠবেন আপনিও

চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। পুলিশি তদন্তের মাঝেই ময়নাতদন্তের যে প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা যেমন চাঞ্চল্যকর, তেমনই শিউরে ওঠার মতো। রিপোর্ট বলছে, অত্যন্ত কাছ থেকে এবং অত্যন্ত পেশাদারভাবে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হয়।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে চাঞ্চল্য ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, চন্দ্রনাথের শরীরে মোট তিনটি গুলির ক্ষত পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ছিল বুকের বাঁ-দিকের ক্ষতটি। গুলিটি সরাসরি তাঁর হৃৎপিণ্ড এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়ে শরীরের অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের আঘাতের পর বাঁচার ন্যূনতম সুযোগও থাকে না। হার্ট ফেলিওর এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই যে মৃত্যুর প্রধান কারণ, তা এখন নিশ্চিত।

পেশাদার খুনি কি নেপথ্যে? তদন্তকারী আধিকারিকদের নজর কেড়েছে বুলেটের গতিপথ। তিনটি গুলির একটিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। পিঠের দিক থেকেও একটি বুলেটের আঘাত রয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পালানোর চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি চন্দ্রনাথের। যেভাবে একেবারে নিখুঁত নিশানায় হৃৎপিণ্ড লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, তাতে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান—এর নেপথ্যে কোনও পেশাদার শার্প শ্যুটার বা কন্ট্রাক্ট কিলার থাকতে পারে।

রহস্যের জট কি খুলছে? ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পুলিশের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন এত আক্রোশ ছিল চন্দ্রনাথের ওপর? কেনই বা তাঁকে এত কাছ থেকে পরপর তিনটি গুলি করে ঝাঁজরা করে দেওয়া হলো? ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, খুনি জানত ঠিক কোথায় আঘাত করলে এক লহমায় প্রাণ কেড়ে নেওয়া সম্ভব।

ইতিমধ্যেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এবং চন্দ্রনাথের শেষ কয়েক দিনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের এই নতুন তথ্য সামনে আসার পর তদন্তের অভিমুখ এখন বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তিলোত্তমার বুকে এই ধরনের ‘টার্গেট কিলিং’ যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy