পর্যটন শিল্পে এই মুহূর্তে দেশের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশেষ করে বাণিজ্যিক পর্যটন বা ‘মাইস’ (MICE – Meetings, Incentives, Conferences, and Exhibitions) ডেস্টিনেশন হিসেবে রাজ্য দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
রেকর্ড ব্যবসা ও রাজস্ব:
কলকাতায় আয়োজিত ‘সিআইআই ট্রাভেল ইস্ট ২০২৫’ (CII Travel East 2025)-এর নবম সংস্করণে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এই আশাব্যঞ্জক তথ্য তুলে ধরেন। আইসিপিপি (ICPP)-র সর্বশেষ বার্ষিক রিপোর্টের উল্লেখ করে তিনি জানান:
ইভেন্ট ও ব্যবসা: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বাংলায় ইতিমধ্যেই ১,২০০-র বেশি ‘মাইস’ ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা থেকে ১,১০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা হয়েছে।
রাজস্ব: এই বিপুল কর্মযজ্ঞের ফলে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত রাজ্যের কোষাগারে ২০০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব জমা পড়েছে।
হোটেল বুকিং: নন্দিনী চক্রবর্তী জানান, রাজ্যের এই ব্যবসায়িক রমরমার কারণে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত কলকাতার সমস্ত প্রথম সারির হোটেলগুলি ১০০ শতাংশ বুকড বা ‘সোল্ড আউট’ হয়ে গিয়েছে।
বিদেশী পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় বাংলা:
বিদেশি পর্যটক আগমনের (Foreign Tourist Arrival বা FTA) নিরিখেও বাংলা এখন দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। আমেরিকা, রাশিয়া, ইতালি, ব্রিটেন এবং নেপালের মতো দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পর্যটক বাংলায় আসছেন। সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান সংযোগের অভাব থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের প্রতি লগ্নিকারী ও পর্যটকদের এই ক্রমবর্ধমান আকর্ষণ রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে এক বড় সাফল্যের ইঙ্গিত।
উত্তরবঙ্গে হোম-স্টে বিপ্লব:
রাজ্য শুধুমাত্র মাইস ট্যুরিজমে নয়, হেরিটেজ ট্যুরিজম, খাদ্য পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ওপরও বিশেষ জোর দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের (WBTDCL) ম্যানেজিং ডিরেক্টর অভিষেক কুমার তিওয়ারি জানান, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে হোম-স্টে পর্যটনে বিপ্লব এসেছে।
সংখ্যার নিরিখে দ্বিতীয়: বর্তমানে রাজ্যে ৫,৪০০-র বেশি নথিভুক্ত হোম-স্টে রয়েছে, যা সংখ্যার বিচারে সারা দেশে দ্বিতীয়। এটি গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা নিচ্ছে।
এসকেএম (SKM) গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রশান্ত শর্মা বলেন, রাজ্যের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং সরকারের সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টার ফলেই বিদেশি পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় আজ বাংলা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে, পর্যটনকে হাতিয়ার করে বাংলার অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার এসেছে।