বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত বীরভূম। জেলার রাজনীতির একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে এখন পরিবর্তনের ঝোড়ো হাওয়া। ভোটের ফল স্পষ্ট হতেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। এমনকি জেলা কার্যালয় দখল করে অনুব্রত মণ্ডলের ছবি ছিঁড়ে ফেলার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূমের একাধিক এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধদের রোষ গিয়ে পড়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের ওপর। দলীয় কার্যালয়ে থাকা তাঁর ছবি ও ফ্লেক্স ছিঁড়ে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়। কার্যত ‘কেষ্ট’হীন বীরভূমে ক্ষমতার হাতবদল ঘটাতেই এই ধরণের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এক অনন্য ছবিও ধরা পড়েছে। রাজনৈতিক হিংসা ও ভাঙচুর রুখতে সরাসরি রাস্তায় নামতে দেখা গেল বিজেপির জয়ী প্রার্থীকে। যখন দলীয় কার্যালয় দখল ও ছবি ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছিল, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করেন তিনি। জয়ী প্রার্থীর দাবি, জয় এলেও কোনো ধরণের তাণ্ডব বা অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। বীরভূমে শান্তি বজায় রাখাই এখন তাঁদের প্রথম লক্ষ্য।
নির্বাচন পরবর্তী এই হিংসা ও ছবি ছেঁড়ার ঘটনা ঘিরে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে যখন শাসক শিবিরের দীর্ঘদিনের আধিপত্য টলমল, অন্যদিকে তখন বিজেপি নেতৃত্বের এই সংযত ভূমিকা সাধারণ মানুষের নজর কাড়ছে। তবে জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
বীরভূমের এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ আগামী দিনে কোন পথে হাঁটে এবং ‘কেষ্ট’ রাজত্ব শেষের পর জেলা রাজনীতির ভোলবদল কতটা স্থায়ী হয়, এখন সেটাই দেখার।





