বিহারের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এবার রণক্ষেত্র দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) জারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নীতিশ কুমার সরকার কয়েক লক্ষ মহিলা ভোটারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে পাঠালো, তা নিয়ে বড়সড় আইনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ‘জন সুরাজ’ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর। প্রাক্তন এই ভোটকুশলী বিহার সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন।
মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে আগামীকাল। প্রশান্ত কিশোর তাঁর আবেদনে সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারার প্রসঙ্গ টেনে এনে দাবি করেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’র নামে নতুন উপভোক্তা যোগ করা এবং ভোটের মুখে নগদ টাকা বিলি করা সংবিধানের ১৪, ২১, ১১২, ২০২ এবং ৩২৪ নম্বর ধারার সরাসরি লঙ্ঘন।
উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে বিহারের মহিলাদের ভোটের হার ছিল রেকর্ড-ব্রেকিং ৭১ শতাংশ, যা পুরুষ ভোটারদের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল মহিলা ভোটই নীতিশ কুমারের জোটকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। অন্যদিকে, প্রশান্ত কিশোরের দল এই নির্বাচনে খাতা খুলতে ব্যর্থ হয়েছে। পিকের দাবি, নির্বাচন কমিশন এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
আদালত যদি প্রশান্ত কিশোরের যুক্তি মেনে নেয়, তবে বিহারের এই বিপুল জয়ের নৈতিকতা যেমন প্রশ্নের মুখে পড়বে, তেমনই সংকটে পড়তে পারে নীতিশ কুমারের সরকার। এখন দেখার, কালকের শুনানিতে শীর্ষ আদালত বিহারের এই ‘ক্যাশ ফর ভোট’ বিতর্ক নিয়ে কী কড়া নির্দেশ দেয়।