বিহারের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রতিবেশী রাজ্যের মসনদে প্রথমবার এককভাবে বসতে চলেছে বিজেপি। সূত্রের খবর, বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন হেভিওয়েট নেতা সম্রাট চৌধুরী। অন্যদিকে, প্রভাবশালী বিজেপি নেতা নীতিন নবীনকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
কী এই নতুন সমীকরণ? বিহারে জোট রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাসে বিজেপি সবসময়ই নীতীশ কুমারের জুনিয়র পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিজেপি হাইকম্যান্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর কোনো ‘ছায়া’ নয়, এবার সরাসরি বিহার শাসনের দায়িত্ব নেবে তারা।
মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী: কুশওয়াহা সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় নেতা সম্রাট চৌধুরীকে সামনে রেখে বিজেপি আদতে বিহারের পিছিয়ে পড়া এবং ওবিসি (OBC) ভোট ব্যাংককে সুসংহত করতে চাইছে। তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বিহারের জাতপাত ভিত্তিক রাজনীতিতে এক বড় ধাক্কা।
নীতিন নবীনের ভূমিকা: অভিজ্ঞ নেতা নীতিন নবীনকে রাজ্যসভায় মনোনীত করে তাঁকে কেন্দ্রে বড় কোনো দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মোদী-শাহর। বিহারের উন্নয়ন এবং সংগঠনের কাজে তাঁর অভিজ্ঞতাকে দিল্লিতে কাজে লাগাতে চায় দল।
কেন এই রদবদল? রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন এবং বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে বিজেপি এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছে। নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জেডিইউ-এর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের এটাই সেরা সময় বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।
বিশেষ মন্তব্য: বিহারের ইতিহাসে বিজেপি থেকে কেউ এককভাবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া মানেই হলো রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন। সম্রাট চৌধুরীর হাতে বিহারের ভাগ্য কতটা উজ্জ্বল হয়, এখন সেটাই দেখার।
নীতীশ কুমারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং বিহারে বিজেপির এই দাপুটে উত্থান বিরোধীরা কীভাবে মোকাবিলা করে, তা জানতে নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।





