শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের এক বিস্ফোরক দাবিতে ফের উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। বিষ্ণু পান্তর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া নিয়ে শঙ্কর ঘোষ যে দাবি করেছেন, তাতে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল যে, উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু বিজেপি নেতা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কিন্তু শঙ্কর ঘোষের মতো একজন হেভিওয়েট নেতার মুখ থেকে এমন মন্তব্য আসায় সেই জল্পনা এখন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে।
শঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিষ্ণু পান্ত এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ভেতরে ভেতরে অনেক আগেই কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক পরিকল্পিত চিত্রনাট্য। শিলিগুড়ির বিধায়কের এই মন্তব্য বিজেপির অন্দরে ফাটল ধরার বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে দিল। তিনি বলেন, “তৃণমূল দলটা এখন আদর্শহীন হয়ে পড়েছে, তারা শুধু ভয় দেখিয়ে বা টোপ দিয়ে বিরোধী শিবিরের নেতাদের ভাঙিয়ে নিয়ে যাওয়ার রাজনীতি করছে।”
বিষ্ণু পান্ত, যিনি উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক পরিচিত মুখ, তাঁর এই সম্ভাব্য দলবদল বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে যেখানে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি তুলনামূলক মজবুত, সেখানে এই ধরনের ভাঙন কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে। শঙ্কর ঘোষের এই দাবি নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, ঘাসফুল শিবিরের স্থানীয় নেতৃত্ব মৃদু হেসে এই জল্পনা জিইয়ে রেখেছে।
রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের আগে এই রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। শঙ্কর ঘোষের এই বিস্ফোরক দাবির পর এখন সকলের নজর বিষ্ণু পান্তর দিকে—তিনি কি সত্যিই গেরুয়া শিবির ত্যাগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেনাপতি হতে চলেছেন, নাকি শঙ্করের এই দাবি কেবলই রাজনৈতিক কৌশল? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।