সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই নিজের ঘরের মাঠ ভবানীপুরকে দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করতে কোমর বেঁধে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। ভবানীপুরের কর্মীসভা থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন, জয় নয়, লক্ষ্য এখন জয়ের ব্যবধান। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রে ২৩১টি বুথের প্রতিটিতে গতবারের তুলনায় অন্তত পাঁচটি করে বাড়তি ভোট নিশ্চিত করতে হবে। লক্ষ্যমাত্রা স্থির হয়েছে ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটের লিড।
অভিষেকের বার্তায় কোনো আপস নেই। তিনি কাউন্সিলর ও বুথ সভাপতিদের উদ্দেশে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, “বাড়িতে বসে থাকলে চলবে না। বাজারে যান, চায়ের দোকানে বসুন, মানুষের সঙ্গে মিশুন।” শুধু তাই নয়, প্রচারের একটি ‘দৈনিক রিপোর্ট কার্ড’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনসংযোগের নিবিড়তা বোঝাতে তিনি বলেন, প্রয়োজনে এক ভোটারের দরজায় অন্তত তিনবার কড়া নাড়তে হবে। আত্মতুষ্টি বা ‘কমপ্লেসেন্সি’ যে দলের বড় শত্রু হতে পারে, সেই সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, তৃণমূলের দখলে থাকা আটটি ওয়ার্ডেই লিড বাড়াতে হবে।
প্রচারের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে সামনে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির সঙ্গে তুলনা টেনে মহিলাদের বোঝাতে হবে যে, তৃণমূল সরকারই ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। ভবানীপুরকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলা হয়, যেখানে অবাঙালি ভোটারদের একটি বড় অংশ রয়েছে। বিজেপি এখানে ধর্মের নামে মেরুকরণের রাজনীতি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলে কর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিষেক। আগামী সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচার শুরুর আগেই ভবানীপুরের জমি শক্ত করাই এখন তৃণমূলের অগ্রাধিকার।