বিশ্বস্ততার সংজ্ঞাকে আরও একবার রক্ত দিয়ে লিখে দিয়ে গেল এক অবলা প্রাণী। বাড়ির মালকিনকে যমদূতরূপী বিষধর গোখরোর হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন বলিদান দিল পোষ্য সারমেয় ‘ফোনি’। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। বাড়ির এক সদস্যকে হারানোর শোকে পাথর হয়ে গিয়েছে পুরো পরিবার। ‘ফোনি’ কেবল একটি কুকুর ছিল না, সে ছিল ওই বাড়ির অতন্দ্র প্রহরী।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার রাতে। বাড়ির মালকিন যখন বাগানে কাজ করছিলেন, ঠিক সেই সময় ঝোপের আড়াল থেকে একটি বিশালকায় গোখরো সাপ ফণা তুলে তাঁর দিকে তেড়ে আসে। বিপদ বুঝে এক মুহূর্ত দেরি না করে ঝাঁপিয়ে পড়ে ‘ফোনি’। শুরু হয় সাপ আর কুকুরের মরণপণ লড়াই। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলা সেই যুদ্ধে সাপটিকে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেয় ফোনি। কিন্তু লড়াইয়ের মাঝেই সাপের বিষাক্ত ছোবল লাগে তার গায়ে। সাপটি মারা গেলেও কিছুক্ষণ পরেই বিষের জ্বালায় ছটফট করতে করতে মালকিনের কোলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বীর ‘ফোনি’।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ফোনিকে তাঁরা ছোট থেকে নিজের সন্তানের মতো বড় করেছিলেন। বিপদের সময় সে যে এভাবে নিজের বুক পেতে দেবে, তা ভাবতেও পারছেন না কেউ। মালকিন অশ্রুসজল চোখে বলেন, “আজ আমি বেঁচে আছি শুধু ফোনির জন্য। ও না থাকলে সাপটা আমাকেই কামড়াত।” গ্রামের মানুষও ফোনির এই বীরত্বের কাহিনী শুনে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেছেন। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুকুরের এই নিঃস্বার্থ আনুগত্য বারবার প্রমাণ করে দেয় কেন তারা মানুষের সবথেকে প্রিয় বন্ধু।