ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের সম্ভাবনা কেবল ভূ-রাজনীতিতে নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড়সড় ধস নামাতে পারে। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সবথেকে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz)। যদি এই জলপথ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অবরুদ্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) সরবরাহ এক ধাক্কায় ২০-৩০% কমে যেতে পারে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে।
ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানি করে। এর একটি বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং তা এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই পথ বন্ধ হয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ থেকে ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যুদ্ধের প্রভাবে তা লিটার প্রতি অন্তত ১০ থেকে ১৫ টাকা মুহূর্তের মধ্যে বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তেলের দাম বাড়লে শুধু যাতায়াত নয়, শাকসবজি থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও আকাশছোঁয়া হবে। তবে ভারত সরকার বর্তমানে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে, যা হয়তো কিছুটা হলেও এই ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করবে। কিন্তু যুদ্ধের মেঘ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ভারতের তেলের বাজার যে বড়সড় অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।