বাংলার কৃষিজাত পণ্য ও সংস্কৃতির মুকুটে যুক্ত হলো এক অনন্য পালক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘মাটির সৃষ্টি’ এবং বাংলার তিন ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি ধান— গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি ও কনকচুরকে আন্তর্জাতিক ‘খাদ্য ও সংস্কৃতি ঐতিহ্য’ (Food and Cultural Heritage) হিসেবে স্বীকৃতি দিল রাষ্ট্রসঙ্ঘ (United Nations)। এই অভূতপূর্ব সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী টুইট করে বাংলার কৃষক ও সাধারণ মানুষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্পটি মূলত রুক্ষ ও অনুর্বর জমিকে উর্বর করে তুলে সেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রসঙ্ঘ এই মডেলটিকে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও পরিবেশবান্ধব কৃষি উন্নয়নের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
অন্যদিকে, বাঙালির পাতের গর্ব— বর্ধমানের গোবিন্দভোগ, উত্তর দিনাজপুরের তুলাইপাঞ্জি এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার কনকচুর চালের স্বাদ ও সুগন্ধ এবার আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মতে, এই চালগুলি কেবল খাদ্য নয়, বরং বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই স্বীকৃতির ফলে বিশ্ববাজারে বাংলার এই তিন বিশেষ চালের চাহিদা যেমন বাড়বে, তেমনই কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নবান্ন সূত্রে খবর, এই আন্তর্জাতিক তকমা বাংলার কৃষি পর্যটন ও রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “বাংলার কৃষি ও সংস্কৃতি আজ বিশ্ববরেণ্য। ‘মাটির সৃষ্টি’ ও আমাদের প্রিয় সুগন্ধি চালের এই জয় বাংলার মানুষের পরিশ্রমের ফল।” এই ঐতিহাসিক মাইলফলক বাংলার কৃষি অর্থনীতিকে এক ধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
🔹 Hindi Version: