বিলাসিতা বিসর্জন! কেন বাংলো ছেড়ে সোজা আশ্রমে উঠলেন ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর?

ক্ষমতার অলিন্দে বহু নেতা-নেত্রীকে পৌঁছে দেওয়া ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর ওরফে পিকে-র জীবনে এল বড় বদল। বিলাসবহুল বাংলো ছেড়ে তিনি আপাতত নিজের ঠিকানা বেছে নিলেন এক সাধারণ আশ্রমে। পাটনা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘বিহার নবনির্মাণ আশ্রম’-এ এখন দিন কাটছে তাঁর। প্রশান্ত কিশোরের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিহারের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

পিকে জানিয়েছেন, তিনি ২০৩০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত এই আশ্রমে থেকেই তাঁর পরবর্তী রণকৌশল স্থির করবেন। উল্লেখ্য, গত বছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সুরাজ পার্টি’ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিল। কিন্তু তার আগে দু’বছর ধরে গোটা বিহার জুড়ে পদযাত্রা করা সত্ত্বেও, নির্বাচনে চূড়ান্ত ভরাডুবি হয় তাঁর দলের। নিজের দলকে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় ভোট কুশলীর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, গত বছরের সেই শোচনীয় পরাজয়ের গ্লানি থেকেই সাময়িকভাবে নিজেকে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে এই আশ্রমিক জীবন বেছে নিয়েছেন তিনি।

দ্বারভাঙ্গার এক অনুষ্ঠানের শেষে পিকে জানান, পাটনা বিমানবন্দর সংলগ্ন যে অত্যাধুনিক বাংলোটিতে তিনি থাকতেন, সেটি ছেড়ে তিনি ইতিমধ্যেই এই আশ্রমে উঠে এসেছেন। এই বাংলোটি জন সুরাজ পার্টির এক নেতার মালিকানাধীন। কেন আচমকা এই আশ্রমিক জীবন বেছে নিলেন, তার কোনো সদুত্তর পিকে দেননি। তবে তাঁর এই পদক্ষেপের ফলে জন সুরাজ পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দানা বেঁধেছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মনে। আগামী বছর লোকসভা নির্বাচন থাকলেও, পিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো পরিকল্পনা করছে না।

নিজের এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বিহারের মানুষের উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ পরামর্শও দিয়েছেন পিকে। তিনি বিশেষ করে নীতীশ কুমার সরকার ও লালু প্রসাদের আরজেডি-র বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে নগদ টাকা বিলি করার যে রীতি বিহারে চলছে, তার তীব্র সমালোচনা করে পিকে বলেন, “বিহারবাসীকে অনুরোধ করছি, আপনারা রাজনৈতিক দলের কাছে নিজেদের ভোট বিক্রি করবেন না।” মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা বা নগদ অর্থের প্রলোভনে যে বিহারের রাজনীতি কলুষিত হচ্ছে, তা নিয়ে নিজের আক্ষেপ গোপন করেননি তিনি।

রাজনৈতিক বিপর্যয় কি পিকে-কে সম্পূর্ণ বদলে দিল? নাকি আশ্রমে থেকেই তিনি কোনো নতুন ‘মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরির অপেক্ষায়? এই প্রশ্ন এখন বিহারের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। আশ্রমে থেকে তিনি কতটা জন সংযোগ বজায় রাখতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও প্রশান্ত কিশোরের প্রতিটি পদক্ষেপ যে বিহারের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন দেখার, ২০৩০ পর্যন্ত এই আশ্রমের চার দেয়াল থেকে তিনি বিহারের রাজনীতিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy