চব্বিশের লড়াইয়ের পর ২০২৬-এর বাংলা বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের রেশ আছড়ে পড়ল উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতেও। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই বড় পদক্ষেপ নিলেন সমাজবাদী পার্টি (SP) প্রধান অখিলেশ যাদব। ভোট কুশলী সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ বা আই-প্যাক (I-PAC)-এর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন তিনি।
বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে অখিলেশ যাদব স্পষ্ট জানান, সমাজবাদী পার্টি আর আই-প্যাকের পরিষেবা নেবে না। তবে এই বিচ্ছেদের নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি।
অখিলেশের যুক্তি: লক্ষ্য তৃণমূল স্তরের সংগঠন
আই-প্যাকের মতো হাই-প্রোফাইল সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বাতিলের কারণ হিসেবে ‘আর্থিক সীমাবদ্ধতা’র কথা তুলে ধরেছেন অখিলেশ। তিনি বলেন, “ডেটা-ভিত্তিক বড় পরামর্শদাতা সংস্থা চালাতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে দল সেই অর্থ তৃণমূল স্তরের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কাজে ব্যয় করতে চায়।” পেশাদার পরামর্শদাতাদের ওপর আস্থা হারানোর তত্ত্বও এদিন খারিজ করে দিয়েছেন সপা সুপ্রিমো।
কাকতালীয় নাকি রাজনৈতিক কৌশল?
অখিলেশ যাদব আর্থিক সংকটের কথা বললেও, রাজনৈতিক মহলে অন্য গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বাংলার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হারের পরপরই কেন এই সিদ্ধান্ত—তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় এবং তার আগে আই-প্যাকের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এই সিদ্ধান্তের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, বাংলায় ভোটের ঠিক আগেই আই-প্যাকের দপ্তরে কেন্দ্রীয় সংস্থার হানা এবং এক শীর্ষ কর্তার গ্রেফতারি সংস্থার ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছিল। অনেকের মতেই, আই-প্যাকের ওপর অতি-নির্ভরশীলতাই তৃণমূলের পতনের অন্যতম কারণ। এই পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশে নিজেদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতেই অখিলেশ আগেভাগে সতর্ক হলেন কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।
পেশাদার সংস্থা বনাম দলীয় কর্মী
গত এক দশকে ভারতীয় নির্বাচনে আই-প্যাকের মতো সংস্থাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে বাংলায় ‘পালাবদল’-এর পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ফের পুরনো ঘরানার দলীয় সংগঠনের ওপর ভরসা রাখার প্রবণতা ফিরছে বলে মনে করা হচ্ছে। অখিলেশ যাদবের এই ‘বিচ্ছেদ’ সেই পথেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা সময় বলবে।





