বিমল গুরুংয়ের মাস্টারস্ট্রোক! পাহাড়ের পর এবার সমতলের তুরুপের তাস ‘গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা’, চিন্তায় তৃণমূল?

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ এক নাটকীয় মোড় নিল। পাহাড়ের রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য ফিরে পেতে এবং গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে জিইয়ে রাখতে আবারও ‘পুরানো বন্ধু’ বিজেপির হাত ধরলেন বিমল গুরুং। তবে এবার শুধুমাত্র পাহাড়ের তিনটি আসনেই সীমাবদ্ধ নয় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার রণকৌশল। পাহাড়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার সমতলের আরও ৪টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিজেপি প্রার্থীদের নিঃশর্ত সমর্থনের কথা ঘোষণা করলেন মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং।

সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স এবং তরাই অঞ্চলের মোট ৪টি আসনে বিজেপির হয়ে কোমর বেঁধে নামছে মোর্চা কর্মীরা। মূলত নকশালবাড়ি-মাটিগাড়া, ফাঁসিদেওয়া, কালচিনি এবং মাদারিহাট—এই আসনগুলিতে গোর্খা ও নেপালি ভোটারদের একটি বড় অংশ নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। বিমল গুরুংয়ের এই সমর্থন ঘোষণার ফলে এই আসনগুলোতে গেরুয়া শিবিরের পাল্লা অনেকটাই ভারী হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, পাহাড়ের দার্জিলিং কেন্দ্রে ইতিপূর্বেই বিজেপি ও মোর্চার জোট চূড়ান্ত হয়েছে এবং সেখানে পাহাড়ি দলটির পক্ষ থেকেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।

বিমল গুরুং জানিয়েছেন, গোর্খা জাতিসত্তার স্বার্থ এবং উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই তারা বিজেপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে পাহাড় ও সমতলের গোর্খা সম্প্রদায় বঞ্চিত হয়েছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখেই তিনি তাঁর সমর্থকদের পদ্ম চিহ্নে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই জোট ‘সুবিধাবাদী’ এবং মানুষ বিমল গুরুংয়ের অস্থির রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করবে। তবে ২০২৬-এর এই নির্বাচনে পাহাড় ও সমতলের এই ‘পদ্ম-মোর্চা’ রসায়ন শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy