২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই মুর্শিদাবাদ থেকে জলপাইগুড়ি—তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। ফরাক্কার বিদায়ী বিধায়ক মনিরুল ইসলাম সরাসরি দলের বিরুদ্ধে ‘বলির পাঁঠা’ করার অভিযোগ তুললেন। বুধবার ফরাক্কা এমএলএ ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, বিডিও অফিসের দুর্নীতি ও SIR ইস্যুতে সরব হওয়ার কারণেই তাঁকে দলীয় টিকিট থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মনিরুল স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি নির্বাচনে লড়বেনই, তবে নির্দল না অন্য কোনও দলে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তাঁর দাদা কৌসার আলীও সামশেরগঞ্জ থেকে লড়াই করবেন বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে চারবারের বিধায়ক খগেশ্বর রায় টিকিট না পেয়ে ক্যামেরার সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর অভিযোগ আরও গুরুতর, তিনি দাবি করেছেন, “আজ আমি টাকার কাছে হেরে গেলাম। বিপুল টাকা দিয়ে অন্য কেউ প্রার্থী হয়েছে।” ক্ষোভে তিনি তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং রাজগঞ্জে দলের পরাজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। স্বপ্না বর্মনকে প্রার্থী করায় সেখানে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যেও তীব্র বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক এই উত্তাপের মাঝেই মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় উদ্ধার হয়েছে ব্যাগ ভর্তি তাজা বোমা। ভবানীপুর এলাকায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ফরাক্কা থানার পুলিশ এই অভিযান চালায়। আইসি অমিত মুখার্জি জানিয়েছেন, নাশকতার উদ্দেশ্যেই এই বোমা মজুত করা হয়েছিল। বোম্ব স্কোয়াডকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং গোটা এলাকা পুলিশি নজরদারিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক দলবদল আর অন্যদিকে বোমা উদ্ধার—ভোটের মুখে তপ্ত মুর্শিদাবাদ।