২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার রাজনীতির অলিন্দ। সোমবার লেনিন সরণিতে দলের রাজ্য দপ্তরে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে বড় ঘোষণা করল এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)। আসন্ন নির্বাচনে তারা রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৩০টিতে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে সিপিএম ও বামফ্রন্টের কড়া সমালোচনা করে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বামপন্থার আসল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে বর্তমান সংসদীয় বাম দলগুলো।
সিপিএম-কে তীব্র আক্রমণ: সাংবাদিক বৈঠকে এসইউসিআই-এর রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য সিপিএম-এর কড়া সমালোচনা করে বলেন, “সিপিএম দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকাকালীন জনবিরোধী নীতি নিয়েছে এবং বর্তমানে তারা নীতিহীন রাজনীতি করছে।” তার অভিযোগ, বিকল্প বামপন্থার কথা বললেও সিপিএম ও তাদের সহযোগীরা বুর্জোয়া দলগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলছে। এই কারণেই বাম ঐক্যের চেয়ে জনস্বার্থ ও আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে একলা লড়াকেই শ্রেয় মনে করছে এসইউসিআই।
২৩০ আসনে রণকৌশল: দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল বিজেপি বা তৃণমূল বিরোধী ভোট নয়, বরং সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির লড়াইকে সামনে রেখেই তারা ভোটের ময়দানে নামছে। রাজ্যের ২৩০টি আসনে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মূলত খেতমজুর, শ্রমিক এবং ছাত্র ও যুব সমাজের জ্বলন্ত ইস্যুগুলোকে হাতিয়ার করেই তারা নির্বাচনী প্রচার চালাবে। লেনিন সরণির রাজ্য দপ্তর থেকে সোমবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করার কোনো সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই।
বিকল্প রাজনীতির ডাক: রাজনৈতিক মহলের মতে, এসইউসিআই-এর এই সিদ্ধান্ত বাম শিবিরের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জঙ্গলমহল ও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় যেখানে তাদের সংগঠন মজবুত, সেখানে তৃণমূল ও বিজেপি-বিরোধী বাম ভোটের বিভাজন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো। এসইউসিআই নেতৃত্বের দাবি, মানুষ এখন প্রকৃত বামপন্থা খুঁজছে এবং তারাই সেই একমাত্র বিকল্প।