তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের গৃহযুদ্ধ এখন বিধানসভার ফ্লোরেও স্পষ্ট। বিধানসভায় ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে কারা অংশগ্রহণ করবেন, তা নিয়ে তৈরি হলো নতুন সমীকরণ। সূত্রের খবর, বিধানসভার আসন্ন সর্বদলীয় বৈঠকে ডাক পেয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়করা। আর এখানেই বড় ধাক্কা খেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষরা।
কেন ডাক পেলেন না শোভনদেব-কুণালরা? বিধানসভার অভ্যন্তরীণ জটিলতায় এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার রথীন্দ্র বোস। ফলে প্রশাসনিক ও আইনি বৈধতার লড়াইয়ে আপাতত ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পাচ্ছেন ঋতব্রতরাই। আর সেই কারণেই বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ সর্বদলীয় বৈঠকে মমতা শিবিরের প্রতিনিধি অর্থাৎ শোভনদেব বা কুণাল ঘোষদের ডাক দেওয়া হয়নি।
কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অগণতান্ত্রিক। আমরাই দলের আসল প্রতিনিধি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং স্পিকারের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে ঠেলে বিদ্রোহীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা আইনিভাবে এর মোকাবিলা করব।”
রাজনৈতিক গুরুত্ব: তৃণমূলের অন্দরের এই ভাঙন এখন আর ঘরোয়া বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি বিধানসভার কার্যপ্রণালীতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর বিধায়করা বিধানসভায় কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বা কুণাল ঘোষদের এহেন অবজ্ঞা কি তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথকে আরও কঠিন করে তুলবে? নাকি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মমতা শিবির পথে নামবে—সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজ্য রাজনীতির।





