বিধানসভার অন্দরেই শুভেন্দুর জয়গান! ৪ তারিখের আগে কোন আতঙ্কে কাঁপছেন কর্মীদের একাংশ?

ভোটযুদ্ধ শেষ, এখন শুধু প্রতীক্ষা ৪ মে-র। রাজ্য রাজনীতির ভাগ্য এখন ইভিএম-এ বন্দি। কিন্তু ফল প্রকাশের আগেই জল্পনার পারদ চড়ছে খোদ বিধানসভার অলিন্দে। শতাব্দী প্রাচীন এই ভবনের আনাচে-কানাচে এখন একটাই প্রশ্ন— পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন? আর এই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু-স্তুতি বনাম আতঙ্ক: অষ্টাদশ বিধানসভা গঠনের আগে বর্তমানে সেখানে এক অদ্ভুত আবহাওয়া। মজার বিষয় হলো, গত সেপ্টেম্বর মাসেও যে নিরাপত্তা রক্ষীরা বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যান্ডেজ বেঁধে সরব হয়েছিলেন, আজ তাঁদেরই অনেকের গলায় শোনা যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত এক কর্মীর কথায়, “শুভেন্দু অধিকারীর মতো লড়াকু নেতা আগে দেখিনি। এই লড়াইয়ের ফল তিনি ৪ তারিখ পাবেন বলেই আশা করি।”

তবে উল্টো ছবিও আছে। যাঁরা একসময় শুভেন্দুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছিলেন, তাঁদের মনে দানা বেঁধেছে ভয়। সরকার বদল হলে তাঁদের ভাগ্যে কী আছে, তা নিয়ে রীতিমতো ফিসফাস চলছে কোণায় কোণায়।

তৃণমূল-বিজেপির বাদানুবাদ: মাঠের লড়াই শেষ হলেও কথার লড়াই থামেনি। তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক অপূর্ব সরকার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, জনমত তাঁদের পক্ষেই থাকবে। অন্যদিকে, বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সাফ দাবি, “নীল বাড়িতে বদল নিশ্চিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার প্রাক্তন হতে চলেছেন।”

বিরোধী দলনেতা হিসেবে অনন্য শুভেন্দু? বিধানসভার অন্দরে আলোচনার বড় অংশ জুড়ে থাকছেন শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই করার পদ্ধতি। প্রবীণ কর্মীদের একাংশ বলছেন, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় বা জ্যোতি বসুর মতো রথী-মহারথীদের এই ভবন দেখেছে, কিন্তু বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুর আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং কৌশল তাঁদের অনেককেই ভাবিয়ে তুলছে। ৪ মে-র পর এই লড়াই ইতিহাসের পাতায় কোন জায়গায় ঠাঁই পায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিধানসভা চত্বর।

সব মিলিয়ে, নীল বাড়ির অন্দরে এখন এক চাপা উত্তেজনা। জয়-পরাজয়ের হিসেব মেলানোর মাঝেই শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তৈরি হওয়া এই নতুন রসায়নই এখন বাংলার রাজনীতির নতুন ‘টক অফ দ্য টাউন’।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy