দীর্ঘ ৪ বছর ধরে চলা বিতর্কে অবশেষে যবনিকা পতন। ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ‘দেশ কে গদ্দারো কো, গোলি মারো সালো কো’— এই বিতর্কিত স্লোগান নিয়ে বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর ও পারভেশ বর্মাকে বড়সড় স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই স্লোগানে কোনো ‘কগনিজেবল অফেন্স’ বা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ মেলেনি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: অশালীন মানেই কি অপরাধ? বিচারপতিদের বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। আদালত জানায়, কোনো বক্তব্য অশালীন বা আপত্তিকর মনে হতেই পারে, কিন্তু যতক্ষণ না তা সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে হিংসা উসকে দিচ্ছে বা ঘৃণা ছড়ানোর অকাট্য প্রমাণ মিলছে, ততক্ষণ তাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না। আদালতের মতে, রাজনৈতিক প্রচারে অনেক সময় উত্তেজিত ভাষা ব্যবহার করা হয়, তবে তার মানে এই নয় যে সব বক্তব্যকেই অপরাধের আওতায় আনতে হবে।
প্রেক্ষাপট: ২০২০-র সেই উত্তাল সময় উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যখন সিএএ-বিরোধী আন্দোলনে রাজধানী উত্তাল, সেই সময় রামলীলা ময়দান ও জনসভা থেকে এই স্লোগান দিয়েছিলেন অনুরাগ ঠাকুর ও পারভেশ বর্মা। সেই সময় বিরোধীরা একে ‘সাম্প্রদায়িক বিষ’ বলে দেগে দিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনও তাঁদের প্রচারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালত জানাল, রাজনৈতিকভাবে অশালীন হলেও আইনি দিক থেকে এটি অপরাধের মানদণ্ড পূরণ করেনি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তির হাওয়া বিজেপি শিবিরে। দলের দাবি, বিরোধীরা স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিজেপি নেতাদের হেনস্থা করতে এই মামলা করেছিল। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই পর্যবেক্ষণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই ধরণের স্লোগান সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে, তাই একে শুধুমাত্র ‘উত্তেজিত ভাষা’ বলে লঘু করে দেখা ঠিক নয়।





