সময় এবং রাজনীতি—উভয়ই যে অত্যন্ত অনিশ্চিত, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে উঠলেন অভিনেতা ও ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী। মাত্র চার মাস আগের কথা; যখন নেটদুনিয়ার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে একপ্রকার ‘অন্তর্ধান’ হতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু রাজনীতির চাকা ঘুরতেই সেই সায়কই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শনিবার ব্রিগেডের ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ ‘ভিআইপি’ আমন্ত্রিত হিসেবে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে দানা বাঁধছে জল্পনা।
শুক্রবার রাতে সায়ক যখন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে রাজকীয় আমন্ত্রণপত্রের ছবি পোস্ট করেন, তখনই যেন মৌচাকে ঢিল পড়ে। ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, “এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুষ্ঠানে ডাক পেলাম। কোনও মিছিলে না হেঁটে।” তাঁর এই মন্তব্য যে সরাসরি রাজনৈতিক ইঙ্গিতবাহী, তা বুঝতে কারোরই বাকি ছিল না। মুহূর্তের মধ্যে নেটিজেনদের শ্লেষাত্মক ও সমালোচনামূলক মন্তব্যে ভরে যায় তাঁর পোস্ট। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সায়ক পোস্টটি মুছে দিলেও ততক্ষণে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
সমালোচকদের একাংশ সায়কের এই রাজকীয় প্রাপ্তিকে গত জানুয়ারি মাসের সেই বহুল চর্চিত ‘রেস্তোরাঁ কাণ্ড’-এর সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পার্ক স্ট্রিটের এক নামী রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ সারতে গিয়ে বড়সড় বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সায়ক। তাঁর অভিযোগ ছিল, মটন স্টেক অর্ডার দেওয়া সত্ত্বেও এক মুসলিম কর্মী তাঁদের ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য মাংস পরিবেশন করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি ফেসবুক লাইভে সরব হয়েছিলেন। সেই সময় নেটিজেনদের একাংশ সায়কের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল, যার ফলে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাময়িক বিরতি নিতে বাধ্য হন।
তবে বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই সায়কের অবস্থান যেন এক রাতেই বদলে গিয়েছে। শুক্রবার দিল্লিতে শাহী দরবার থেকে শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চূড়ান্ত হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন এই অভিনেতা। মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের নব-নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের এই আমন্ত্রণ সায়কের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আনুগত্যেরই এক প্রকার স্বীকৃতি। এখন দেখার, ব্রিগেডের এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর সায়কের কেরিয়ার বা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়।





