বাংলায় ধাক্কা খাওয়ার পর এবার উত্তর-পূর্বের আর এক বাঙালি প্রধান রাজ্য ত্রিপুরাতেও বড় বিপর্যয়ের মুখে গেরুয়া শিবির। কাজ করল না ‘মোদী ম্যাজিক’, মুখ থুবড়ে পড়ল অমিত শাহের ভোট কৌশলও। ‘ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল’ (TTAADC) নির্বাচনে প্রদ্যোত দেববর্মার নেতৃত্বাধীন তিপ্রা মোথা পার্টির (TMP) কাছে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেল বিজেপি। ২৮টি আসনের মধ্যে ২৪টি আসনেই বিশাল জয় ছিনিয়ে নিল টিএমপি।
রাজ্য রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ: ত্রিপুরা বিধানসভায় বিজেপি এবং তিপ্রা মোথা জোটসঙ্গী হলেও, স্বশাসিত কাউন্সিলের এই নির্বাচনে তারা লড়াই করেছিল একে অপরের বিরুদ্ধে। আর সেই লড়াইয়ে বাজিমাত করলেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী প্রদ্যোত দেববর্মা।
তিপ্রা মোথা পার্টি: ২৪টি আসন
বিজেপি: ৪টি আসন
বাম-কংগ্রেস: ০ (শূন্য)
উপজাতি রাজনীতিতে আধিপত্য: ত্রিপুরার প্রায় ৭০ শতাংশ ভৌগোলিক এলাকা এই কাউন্সিলের অধীনে। প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের এই প্রশাসনিক এলাকায় টানা দ্বিতীয়বার জয় পেয়ে প্রদ্যোত প্রমাণ করলেন, ত্রিপুরার পাহাড় এখনও তাঁরই দখলে। ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’-এর দাবিতে তাঁর লড়াই যে উপজাতি জনতা পূর্ণ সমর্থন করছে, এই ফলাফল তারই প্রমাণ।
জয়ের পর প্রদ্যোতের আবেগঘন বার্তা: বিপুল জয়ের পর প্রদ্যোত দেববর্মা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “এটি ঘৃণার ওপর ভালোবাসার জয়। সাধারণ মানুষই অসাধারণ কাজ করে দেখিয়েছেন। আমাদের এই ছোট্ট রাজ্যে যেন কোনও হিংসা না ঘটে, আমরা আগামী প্রজন্মের স্বার্থে কাজ করে যাব।”
মুখ্যমন্ত্রীর অভিনন্দন: বিজেপির শোচনীয় হারের পর মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা সৌজন্য বজায় রেখে তিপ্রা মোথা পার্টিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিজের দলের কর্মীদের পরিশ্রমের জন্যও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।
পরিসংখ্যান কী বলছে? গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৮৩.৫০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন, যা গতবারের তুলনায় অনেকটাই বেশি। ২০২১ সালে টিএমপি পেয়েছিল ১৮টি আসন, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪-এ। অন্যদিকে বিজেপির আসন সংখ্যা ৯ থেকে কমে মাত্র ৪-এ নেমে এসেছে। বাম এবং কংগ্রেস টানা দ্বিতীয়বার এই নির্বাচনে খাতা খুলতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের অস্তিত্ব এখন বড়সড় সংকটের মুখে।





