“বিজেপি নেতারা যে স্কুলে পড়েন, মমতা দিদি সেখানকার প্রিন্সিপাল!” সায়নী ঘোষের বিস্ফোরক ইন্টারভিউ

২০২৬-এর নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, রাজনীতির ময়দানে বাদানুবাদ ততই তীক্ষ্ণ হচ্ছে। তৃণমূলের অন্যতম তারকা প্রচারক তথা যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ এবার বিজেপিকে এক হাত নিলেন। ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, রাজনীতির লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী নেতাদের চেয়ে কয়েক যোজন এগিয়ে।

কী বললেন সায়নী ঘোষ? সাক্ষাৎকারে সায়নীকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘনঘন বঙ্গ সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এক মজাদার অথচ ধারালো রূপক ব্যবহার করেন। তিনি বলেন:

  • প্রিন্সিপাল বনাম ছাত্র: “বিজেপি নেতারা এখন যে ক্লাসে রাজনীতি শেখার চেষ্টা করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই স্কুলের প্রিন্সিপাল। ওঁর অভিজ্ঞতা এবং জনভিত্তির ধারেকাছে আসার যোগ্যতা দিল্লির নেতাদের নেই।”

  • মানুষের পাশে থাকা: সায়নীর দাবি, বিজেপি নেতারা কেবল ভোটের সময় বাংলায় আসেন, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সারা বছর মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন।

  • ২০২৬-এর লক্ষ্য: তৃণমূলের তারকা প্রচারক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, ২০২৬-এ ফের মানুষ উন্নয়নের নিরিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বেছে নেবেন এবং বিরোধীদের যাবতীয় পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে।

রাজনৈতিক তাৎপর্য: সায়নী ঘোষের এই মন্তব্য মূলত বিজেপির শীর্ষ নেতাদের ‘বহিরাগত’ এবং ‘অনভিজ্ঞ’ হিসেবে দেখানোর তৃণমূলী রণকৌশলেরই অংশ। তৃণমূল বোঝাতে চাইছে যে, দিল্লির নেতারা যতই বাংলা জয়ের ছক কষুন না কেন, বাংলার নাড়ি নক্ষত্র মমতার মতো কেউ বোঝেন না।

বিরোধী শিবিরের পাল্টা: সায়নীর এই মন্তব্যের পর বিজেপি নেতৃত্বের তরফেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে। তাঁদের মতে, “যে স্কুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রিন্সিপাল, সেই স্কুলে কেবল দুর্নীতির শিক্ষা দেওয়া হয়।”

নির্বাচনের আগে সায়নী ঘোষের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ তৃণমূল কর্মীদের মনোবল যে তুঙ্গে নিয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy