পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তিনি বরাবরই ঠোঁটকাটা হিসেবে পরিচিত। মেজাজি এবং স্পষ্টবক্তা হিসেবে বারবার শিরোনামে এসেছেন তিনি। এবার সরাসরি রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিলেন ভরতপুরের প্রভাবশালী নেতা হুমায়ুন কবীর। একইসঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেওয়া বা জোট করার জল্পনা নিয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন এই প্রবীণ নেতা।
মমতাকে তীব্র আক্রমণ সম্প্রতি একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, তৃণমূল নেত্রী সাধারণ মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রশাসনের অনেক ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং শীর্ষ নেতৃত্ব নিচুতলার কর্মীদের আবেগ নিয়ে খেলছেন। মমতাকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “যাঁকে আমরা ভরসা করেছিলাম, সেই নেত্রী আজ মিথ্যাবাদী হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের মুখ দেখানোর জায়গা থাকছে না।”
বিজেপি যোগের জল্পনায় ইতি গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে হয়তো গেরুয়া শিবিরের দিকে পা বাড়াতে পারেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু আজ সেই জল্পনায় জল ঢেলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানোর বা জোট করার কোনো প্রশ্নই নেই। আমি আমার নীতিতে অটল।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিলেন যে, তিনি শাসক শিবিরের ওপর ক্ষুব্ধ হলেও বিজেপির আদর্শে বিশ্বাসী নন।
তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর যখন রাজ্যের প্রশাসনিক সমীকরণ বদলাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীরের এই বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যথেষ্ট অস্বস্তি বাড়িয়েছে। নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি পরোক্ষভাবে দলের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। তবে কি তিনি কোনো নতুন মঞ্চ গড়তে চলেছেন নাকি নির্দল হিসেবে নিজের ক্ষমতা জাহির করবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
মুর্শিদাবাদ তথা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীরের একটি নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাঁর এই ‘বিদ্রোহ’ আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।





