২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই চড়ছিল পারদ। বুধবার সন্ধ্যায় ১৯ জন প্রার্থীর নাম সম্বলিত তৃতীয় তালিকা প্রকাশ করে তাতে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটাল বিজেপি। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে আরজি কর হাসপাতালের সেই নৃশংস ঘটনার শিকার তরুণী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথকে। গত বছর আরজি কর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন গণআন্দোলন দেখেছিল পশ্চিমবঙ্গ, সেই ‘আবেগ’ ও ‘বিচারের দাবি’কেই এবার সরাসরি ভোটের ময়দানে নামিয়ে আনল পদ্ম শিবির।
কেন প্রার্থী হলেন নির্যাতিতার মা? রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি বিজেপির একটি অত্যন্ত সুচিন্তিত এবং আবেগঘন পদক্ষেপ। নির্যাতিতার পরিবার প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছিল যে, রাজ্য সরকার ও প্রশাসন তথ্যপ্রমাণ লোপাট করে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছে। এর আগে রত্না দেবনাথ নিজেই সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, “আমাদের বিচার পাওয়ার লড়াই দিন দিন কঠিন হচ্ছে। ক্ষমতা হাতে না থাকলে এই লড়াই জেতা অসম্ভব। তাই আমি নিজে থেকেই বিজেপির হয়ে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, মেয়েকে যারা হারিয়েছে, সেই ‘তিলোত্তমাদের’ বিচার নিশ্চিত করতেই তাঁর এই রাজনৈতিক লড়াই।
বিজেপির তৃতীয় তালিকার অন্যান্য মুখ: বুধবার প্রকাশিত তালিকায় পানিহাটি ছাড়াও আরও ১৮টি কেন্দ্রের নাম রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
-
কোচবিহার দক্ষিণ: রথীন্দ্রনাথ বোস।
-
শান্তিপুর: স্বপন দাস।
-
চুঁচুড়া: সুবীর নাগ।
-
সিঙ্গুর: অরূপ কুমার দাস।
-
ইংলিশ বাজার: অম্লান ভাদুড়ি।
-
তমলুক: হরেকৃষ্ণ বেরা।
বিজেপি এখন পর্যন্ত সিংহভাগ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও, এখনও ১৯টি আসনে নাম ঘোষণা বাকি রেখেছে। ওই আসনগুলিতে তৃণমূলের হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে রণকৌশল সাজাতে বাড়তি সময় নিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
চাপে কি শাসক দল? পানিহাটি বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও, আরজি কর কাণ্ডের ছায়া সেখানে গভীর। স্থানীয় মানুষের সহমর্মিতা এবং বিচারের দাবিতে অনড় পরিবারের প্রতি সমর্থন বিজেপির পালে হাওয়া কাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, বিজেপি এই মৃত্যুকে রাজনীতিকরণ করছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনো রাজনীতি নয়, বরং ন্যায়ের লড়াই। সব মিলিয়ে পানিহাটি কেন্দ্রটি এখন রাজ্যের সবথেকে ‘হাইভোল্টেজ’ আসনে পরিণত হয়েছে।