রাজনীতির ময়দানে তিনি যেমন লড়াকু, তেমনই তাঁর বাগ্মীতায় মিশে থাকে ব্যঙ্গ আর কৌতুক। ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রচারে তারকেশ্বরের জনসভা থেকে বিজেপি-কে বিঁধতে ফের একবার নিজের সেই চেনা মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি নেতাদের বারংবার হুঁশিয়ারির জবাবে এদিন তিনি শ্লেষ মিশিয়ে বললেন, “ইশারাই কাফি! আপনাদের জন্য একটু নাড়ু করে পাঠাব।”
কেন এই ‘নাড়ু’র খোঁচা? বাংলার রাজনীতিতে ‘নাড়ু’ বা ‘রসগোল্লা’র তকমাটি বরাবরই নির্বাচনী ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে বিজেপিকে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্যের নির্যাস হলো:
ফলাফল হবে শূন্য: মমতা বোঝাতে চেয়েছেন যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপি বাংলায় ‘গোল্লা’ বা শূন্য পাবে। আর সেই শূন্যকেই তিনি ব্যঙ্গ করে ‘নাড়ু’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।
কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে জবাব: ইডি-সিবিআই দিয়ে হেনস্থা করার অভিযোগ তুলে তিনি সাফ জানান, ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। বাংলার মানুষ ইশারায় সব বুঝে গেছে এবং বিজেপিকে খালি হাতেই ফেরাবে।
ইশারাই কাফি: বক্তৃতার মাঝে মমতা বারবার মনে করিয়ে দেন যে, বাংলার মানুষ সচেতন। দিল্লির নেতারা বাংলায় এসে বড় বড় কথা বললেও, গ্রামীণ বাংলার ভোটব্যাংক যে ঘাসফুল শিবিরের দিকেই ঝুঁকে আছে, তা বোঝাতে তিনি ‘ইশারাই কাফি’ (ইশারাই যথেষ্ট) শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: প্রধানমন্ত্রীর ‘সাজা’ পাওয়ার হুঁশিয়ারি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বঞ্চনা নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন মমতার এই ‘নাড়ু’ কটাক্ষ কর্মীদের মধ্যে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে। বিরোধীদের গম্ভীর আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে এই ধরণের সরস মন্তব্য তৃণমূলের প্রচার কৌশলের একটি বড় অংশ।
উপসংহার: মমতার এই নাড়ু উপহারের বার্তায় কি লুকিয়ে আছে ২০২৬-এর কোনো বড় ইঙ্গিত? নাড়ু কি সত্যিই বিজেপির ঝুলিতে ‘শূন্য’ হয়ে ফিরবে? তারকেশ্বরের মাঠ থেকে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বাংলায়।





