মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্তবর্তী সাগরপাড়া, মহিষমারি এবং দেবীনরায়ণপুর এলাকায় প্রতি বছরের মতো এবারও কয়েকশো বিঘা জমিতে রসুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কার্তিক মাসে রোপণ করা ‘গঙ্গাজলী’ রসুন ফাল্গুনের শেষে জমি থেকে উঠতে শুরু করলেও, কৃষকদের মুখে হাসির বদলে এখন চরম দুশ্চিন্তার ছাপ। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলন ভালো হলেও বাজারের মন্দা দশা এবং রফতানি বন্ধ থাকায় কার্যত পথে বসার জোগাড় হয়েছে শত শত চাষির।
কৃষকদের দাবি, প্রতি বিঘা জমিতে বীজ, সার ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ বর্তমানে পাইকারি বাজারে রসুনের দর মিলছে কুইন্টাল প্রতি মাত্র ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা। রসুন চাষি দিলীপ সরকারের কথায়, “এক বিঘা জমির রসুন বিক্রি করে বড়জোড় ৩২-৩৩ হাজার টাকা হাতে আসছে, যা উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম।” কৃষি দফতর ফলন ভালো হয়েছে বলে দাবি করলেও, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভ্রুকুটি এবং সঠিক রফতানি নীতি না থাকাকেই এই চরম আর্থিক ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন চাষিরা।