মোথাবাড়ি কাণ্ডের জেরে কলকাতা হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের কঠোর পদক্ষেপের মুখে পড়লেন আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম। সোমবার বার অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল বডির এক জরুরি বৈঠকে তাঁকে সংগঠন থেকে সাসপেন্ড (সাময়িক বহিষ্কার) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর আদালত চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন মোফাক্কেরুল।
সাসপেন্ড হওয়ার পর যা বললেন মোফাক্কেরুল: বহিষ্কারের খবর শোনার পর মোফাক্কেরুল ইসলাম ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন:
“আমার বিরুদ্ধে যা করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ একতরফা এবং পরিকল্পিত চক্রান্ত। বার অ্যাসোসিয়েশন কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি আইনের লোক, আইনের পথেই এর মোকাবিলা করব।”
তিনি আরও দাবি করেন যে, মোথাবাড়ির ঘটনায় তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? কলকাতা হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে মোথাবাড়ি এলাকায় ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনায় মোফাক্কেরুল ইসলামের নাম জড়িয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, একজন আইনজীবী হয়েও তিনি বিচারব্যবস্থার গরিমা ক্ষুণ্ণ করেছেন এবং বিশৃঙ্খলায় ইন্ধন দিয়েছেন। সোমবারের বৈঠকে অ্যাসোসিয়েশনের অধিকাংশ সদস্য তাঁর আচরণের তীব্র নিন্দা জানান এবং তাঁকে বার থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাব সমর্থন করেন।
আদালত পাড়ায় উত্তেজনা: আজকের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক জানিয়েছেন, আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কোনো সদস্য যদি আইনবিরোধী কাজে যুক্ত হন, তবে সংগঠন তা বরদাস্ত করবে না।
এদিকে, মোফাক্কেরুল ইসলামের অনুগামী আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিক্ষোভের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সব মিলিয়ে মোথাবাড়ি কাণ্ড এখন মোফাক্কেরুলের রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





