মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান। বুধবার সকালে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি (অজিত গোষ্ঠী) নেতা অজিত পাওয়ার। বুধবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট নাগাদ বারামতীতে অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ে তাঁর চার্টার্ড বিমানটি। বিমানে থাকা অজিত পাওয়ার সহ ৬ জনই এই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। দাপুটে এই নেতার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দেশে। শোকস্তব্ধ বলিউড ও বিনোদন জগতও।
অজিত পাওয়ারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল অভিনেতা রীতেশ দেশমুখের। প্রিয় ‘অজিত দাদা’র প্রয়াণে ভেঙে পড়ে রীতেশ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “মহারাষ্ট্র এক গতিশীল নেতাকে হারাল। তিনি অকর্মণ্যতা সহ্য করতেন না এবং সবাইকে সেরাটা দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন। তাঁর অতুলনীয় রসবোধ এবং স্পষ্টবাদিতা মিস করব।” অজয় দেবগনও শোকপ্রকাশ করে লিখেছেন, “অজিত পাওয়ারজির প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”
কান্নায় ভেঙে পড়লেন কঙ্গনা দিল্লিতে সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখে এই দুঃসংবাদ শুনে নিজেকে সামলাতে পারেননি অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দৃশ্যত বিপর্যস্ত কঙ্গনা বলছেন, “হে ভগবান! এটা কী ভয়াবহ খবর… বলার মতো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।” প্রবীণ অভিনেতা অনুপম খের, পরিচালক মধুর ভান্ডারকর এবং স্মৃতি ইরানিও মহারাষ্ট্রের এই শক্তিশালী জননেতাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
ঠিক কী ঘটেছিল? জানা গিয়েছে, জিলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে যোগ দিতে মুম্বই থেকে বারামতী যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকায় অবতরণের সময় লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি রানওয়ে থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে ভেঙে পড়ে এবং তৎক্ষণাৎ আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে কাউকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মহারাষ্ট্র সরকার ইতিমধ্যেই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক।