২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ ততই চমকপ্রদ মোড় নিচ্ছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর বাংলাকে শাসন করা বামেদের যে একনিষ্ঠ ভোটব্যাঙ্ক ছিল, তাতে এবার বড়সড় ধস নামার ইঙ্গিত মিলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ার সাথে সাথে বামেদের সেই দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া ভোটব্যাঙ্ক এবার ব্যাপকভাবে ঝুঁকছে বিজেপির দিকে। যা আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে।
কেন এই মেরুকরণ? ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের ‘শূন্য’ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই রাজ্যে মূল লড়াই তৃণমূল বনাম বিজেপিতে পর্যবসিত হয়েছে। এবার ২০২৬-এর মহারণে সেই মেরুকরণ আরও স্পষ্ট। গ্রামীণ ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে বামেদের নিচুতলার কর্মীরা এবং সমর্থকরা তৃণমূলের ‘অপশাসন’ রুখতে বিজেপিকে শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ‘আগে রাম পরে বাম’ স্লোগানটি এখন উল্টে গিয়ে ‘তৃণমূল হঠাতে পদ্মে ভোট’—এই কৌশলে রূপান্তরিত হয়েছে।
বিজেপির বিশেষ কৌশল: গেরুয়া শিবিরও অত্যন্ত সুকৌশলে বামেদের এই অসন্তুষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রাক্তন বাম ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, তৃণমূলের মোকাবিলা করতে হলে শক্তিশালী সাংগঠনিক শক্তির প্রয়োজন, যা বর্তমানে বামেদের তুলনায় বিজেপির অনেক বেশি। বিশেষ করে জঙ্গলমহল, উত্তরবঙ্গ এবং বীরভূমের মতো জেলাগুলোতে বাম ভোট হু হু করে গেরুয়া শিবিরের দিকে সরতে শুরু করেছে।
চাপ বাড়ছে বামফ্রন্টের ওপর: একের পর এক নির্বাচনে ভোট শতাংশ কমতে থাকায় অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে বাম দলগুলো। তারুণ্যকে সামনে রেখে এবং নতুন স্লোগান নিয়ে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও, নিচুতলার ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখাটাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বামেদের এই ‘ভোট ট্রান্সফার’ যদি ২০২৬-এ পূর্ণতা পায়, তবে রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল বহু হেভিওয়েট প্রার্থীর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।
বর্তমানে ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের নজর এখন সেই বুথ স্তরের লড়াইয়ের দিকে—যেখানে পতাকার রং বদলালেও দাবিগুলো একই রয়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত লাল দুর্গ কি পুরোপুরি গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে যাবে? উত্তর দেবে আসন্ন ভোটবাক্স।





