বাবরি মসজিদের শিলান্যাসে মহা-প্রতারণা? ‘সৌদি ধর্মগুরু’ আসলে বঙ্গের বাসিন্দা! মুখ খুললেন মেদিনীপুরের ক্কারী আবদুল্লা

বাবরি মসজিদের প্রস্তাবিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানকে ঘিরে নবাবের শহরে এখন চরম শোরগোল। অনুষ্ঠানের আয়োজকদের বিরুদ্ধে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, সৌদি আরব থেকে কেউ সেই অনুষ্ঠানে না এলেও, দু’জনকে সৌদি আরবের ধর্মগুরু হিসেবে পরিচয় দিয়ে মঞ্চে তোলা হয়েছিল।

‘আমাকে সৌদি আরবের অতিথি বলা হয়’

এই ঘটনা সামনে এনেছেন মঞ্চে ওঠা দুই ‘ক্কারী’-র (মক্কার ইমাম হিসেবে প্রচারিত) একজন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি সৌদি আরবের নন, বরং পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। তাঁর নাম ক্কারী আবদুল্লা।

এক ভিডিও বার্তায় ক্কারী আবদুল্লা বলেন, “আমি পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। আমাকে মঞ্চে তুলে সৌদি আরবের মেহেমান (অতিথি) বলে ঘোষণা করা হয়। আমি এই ঘোষণা শুনে স্তম্ভিত হয়ে পড়ি। ওদের বোঝানোর চেষ্টা করি।” যদিও ইটিভি ভারত এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি, তবে মঞ্চে সৌদি ধর্মগুরুর পোশাকে যাঁকে দেখা গিয়েছিল, তিনি ও ভিডিওর ব্যক্তি একই বলে মনে করা হচ্ছে।

৬ ডিসেম্বরের এই অনুষ্ঠানে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছিল যে, সৌদি আরব থেকে দুই ‘ক্কারী’ আসছেন। মঞ্চে তাঁদের আরবি ধর্মগুরুর পোশাকে দেখাও গিয়েছিল। তখনই অনেকে সন্দেহ করেন। ঘটনার চারদিন বাদে আয়োজকদের সূত্রেই জানা যায়, কর্মসূচিতে ‘সৌদির ক্কারী’ সেজে যাঁরা যোগ দিতে এসেছিলেন, তাঁদের একজন মুর্শিদাবাদের এবং অপরজন মেদিনীপুরের বাসিন্দা।

হুমায়ুন কবীর বললেন, ‘এটা চক্রান্ত’

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন অনুষ্ঠানের আয়োজক হুমায়ুন কবীর। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ প্রতারণার অভিযোগ এনে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

হুমায়ুন কবীর অবশ্য নিজের দায় অস্বীকার করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি নিজেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং তাঁকে ঠকানো হয়েছে। হুমায়ুনের কথায়, “ভরতপুরের ইউসুফ বলে আমার এক পরিচিত, সে এই ব্লান্ডার করেছে। সে বলেছিল যে, সৌদির দু’জন গুজরাতে আছে। ও কাউকে সাজিয়ে নিয়ে এসেছে, তার দায় আমার না। এটা আমার বিরুদ্ধে একটা চক্রান্ত।”

এই ঘটনায় একদিকে যেমন শুরু হয়েছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, তেমনই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগেও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy