আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে রাজ্যের বাজেট অধিবেশন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই হতে চলেছে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশন। এই অধিবেশনের প্রাক্কালে আজ বিধানসভায় ডাকা হয়েছে সর্বদলীয় বৈঠক। তবে, প্রথা মেনে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা ও বিতর্ক। অভিযোগ, বিধানসভার সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষকে।
বিধানসভার রীতি অনুযায়ী, অধিবেশন শুরুর আগে মূলত দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একটি সর্বদলীয় বৈঠক, যেখানে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের ডাকা হয় এবং অন্যটি কার্যবিবরণী সংক্রান্ত বৈঠক। আজ সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, সর্বদলীয় বৈঠকে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির মতো দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, বাদ পড়েছেন শাসকদলের একাংশ। বিজেপির পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের মুখ্য সচেতককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু কেন আমন্ত্রণ পেলেন না শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ কিংবা ফিরহাদ হাকিমের মতো নেতারা, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং তাঁদের কাছে এই বৈঠকের কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এসে পৌঁছায়নি। বিধানসভার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে যাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, কেবলমাত্র তাঁদেরই আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে বলে খবর। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন। যদিও অবশিষ্ট ১৫ জন বিধায়ককে আলাদা করে আমন্ত্রণ না জানানোয় তৃণমূল শিবিরে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
গতকাল ১৫ জুন এ প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমি কোনো খবর বা চিঠি কিছুই পাইনি।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, তবে কি বিধানসভার ভেতরে তৃণমূলের অবশিষ্ট বিধায়কদের গুরুত্ব ক্রমশ কমানোর চেষ্টা চলছে? বিরোধী দলনেতার বক্তব্য অনুযায়ী, দলগত অবস্থানের ভিত্তিতেই এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
১৮ তারিখ রাজ্যপালের ভাষণের মধ্য দিয়ে এবারের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। এর আগে একদিন মাত্র বিধানসভা বসেছিল, যেখানে স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশনের প্রাক্কালে এই সর্বদলীয় বৈঠকের প্রেক্ষাপট যে যথেষ্ট উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, বিরোধী দলনেতার উপস্থিতিতে এই বৈঠকে অধিবেশন পরিচালনার জন্য কোন নতুন রণকৌশল গ্রহণ করা হয়। সব মিলিয়ে, এই আমন্ত্রণ বিতর্ক বাজেট অধিবেশনের উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।





