ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরপরই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ পদে রদবদল ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত চরমে পৌঁছাল নবান্নের। কোনও আলোচনা বা নামের প্যানেল ছাড়াই একতরফাভাবে মুখ্য সচিব ও পুলিশ ডিরেক্টর জেনারেলকে (ডিজি) সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের এই পদক্ষেপ অসাংবিধানিক এবং সম্পূর্ণ একতরফা।
কমিশনারকে লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন, কেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই সরিয়ে দেওয়া হল। সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা মনে করিয়ে দেন যে, নির্বাচনের সময় বদলি কমিশনের এক্তিয়ারে থাকলেও তা রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে হওয়া বাঞ্ছনীয়। সাধারণত তিনটি নামের প্যানেল চাওয়া হলেও এক্ষেত্রে কমিশন সরাসরি নতুন অফিসার নিয়োগ করেছে, যা নজিরবিহীন।
ধর্মতলার র্যালি থেকেও আজ সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। বিদায়ী মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে সরব হয়ে তিনি বলেন, “নন্দিনী একজন বাঙালি মহিলা। ওঁর মতো দক্ষ অফিসারকে মধ্যরাতে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হল। আপনারা শুধু বাংলা বিদ্বেষী নন, হিন্দু এবং হিন্দি বিদ্বেষীও বটে।” কমিশনকে ‘বিজেপির দালাল’ বলে আক্রমণ করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই ‘অগণতান্ত্রিক’ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।