বাংলার মসনদে বসেই মারকাটারি ব্যাটিং শুভেন্দুর! ৩২১টি রাজনৈতিক খুনের ফাইল খুলছে নবান্ন?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন সূর্যোদয়। ২০২৬-এর পালাবদলের পর সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্বভার গ্রহণ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনিক বৈঠক এবং সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তিনি যে বার্তা দিলেন, তাতে স্পষ্ট যে আগামী পাঁচ বছর বাংলার প্রশাসন চলবে ‘স্পিড’ এবং ‘স্বচ্ছতা’র ওপর ভিত্তি করে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে সীমান্ত নিরাপত্তা—প্রথম দিনেই একগুচ্ছ মাস্টারস্ট্রোক দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই এক বিরল রাজনৈতিক সৌজন্য প্রদর্শন করেন। রাজ্যের ভোটার, নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, পর্যবেক্ষক এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের এই মহোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমি প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞ।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের তিক্ততা কাটিয়ে রাজ্যে এক সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরাতেই এই বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন।

তবে সবথেকে বেশি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ৩২১ জনের পরিবারকে দেওয়া তাঁর আশ্বাস ঘিরে। শুভেন্দু ঘোষণা করেন, বিগত বছরগুলিতে রাজনৈতিক সংঘর্ষে বা আন্দোলনে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবার যদি চায়, তবে সরকার নিরপেক্ষ তদন্তের পথে হাঁটবে। তিনি সাফ জানান, “আমরা কারও ওপর জোর করে তদন্ত চাপিয়ে দেব না। কিন্তু যদি কোনও পরিবার সুবিচার চায়, তবে এই সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সত্য উদঘাটন করবে।” এই পদক্ষেপকে অনেকেই পূর্বতন সরকারের আমলের ‘রাজনৈতিক হিংসা’র ক্ষত মোছার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দ্বিতীয় বড় ঘোষণাটি করেন সীমান্ত এলাকা নিয়ে। তিনি জানান, বিএসএফ-এর জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হচ্ছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “দেশের নিরাপত্তা সবার আগে। অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে বিএসএফ-কে সবরকম সহযোগিতা করবে রাজ্য সরকার।”

স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও বড় খবর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে এবার থেকে চালু হচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্প বাংলায় কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ মানুষ যে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন, এবার তার অবসান ঘটতে চলেছে। এর পাশাপাশি ‘জন আরোগ্য যোজনা’ এবং প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকেও দ্রুত রাজ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আয়ুষ্মান ভারত চালু হলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ দরিদ্র পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন, যা বাংলার স্বাস্থ্য পরিষেবায় বিপ্লব ঘটাবে। প্রথম দিনের এই দাপুটে পারফরম্যান্সের পর এটুকু স্পষ্ট যে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য প্রশাসন এখন পূর্ণগতিতে দৌড়তে প্রস্তুত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy