রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও শিল্পক্ষেত্রের করুণ দশা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন বিজেপি। এই পরিস্থিতি থেকে বাংলাকে মুক্তি দিতে এবার সরাসরি মাঠে নামলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যের মুখ থুবড়ে পড়া শিল্প ও কর্মসংস্থানের হাল ফেরাতে আজ সকালে দিল্লির বাসভবনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন তিনি।
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বিগত ৫০ বছরের শিল্প-রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিগত পাঁচ দশকে কার্যত পশ্চিমবঙ্গের শিল্পকে ধ্বংস করা হয়েছে। আজকের পশ্চিমবঙ্গ কেবলই ‘পরিযায়ীদের রাজ্য’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মসংস্থানের অভাবে বাংলার মানুষ বাধ্য হয়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। মাথাপিছু আয়ের নিরিখে বাংলা এখন তলানিতে ঠেকেছে।”
শিল্পহীন বাংলার এই শ্রীহীন অবস্থা থেকে উত্তরণই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। শমীক ভট্টাচার্য আরও জানান, “আমরা মহারাষ্ট্র, কর্নাটক বা তামিলনাড়ুর মতো অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ রাজ্যগুলোর সঙ্গে একই সারিতে বাংলাকে দাঁড় করাতে চাই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত করার জন্য আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।”
বৈঠক সম্পর্কে আশাবাদী শমীক জানান, নির্মলা সীতারমন পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত রয়েছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে, সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই দুরবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। শমীকবাবুর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গকে এই অন্ধকার দশা থেকে বের করে আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সবরকম সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—সবাই মিলে বাংলাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেব। আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবেই।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবি জোরালো হচ্ছে। শিল্প ও কর্মসংস্থান যে আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির প্রধান ইস্যু হতে চলেছে, শমীক ভট্টাচার্যের এই তৎপরতা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই সমন্বয় বাংলার ভাগ্য ফেরাতে কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।





