বাংলায় জারি রাজ্যপালের শাসন! মধ্যরাতে নবান্ন থেকে মমতার ক্ষমতা কাড়লেন আর এন রবি, উত্তাল রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গের ৫ দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে আগে কখনও এমন পরিস্থিতি দেখেনি দেশ। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কার্যত এক সাংবিধানিক সংকটের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকার করায়, শেষ পর্যন্ত চরম পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোস (মতান্তরে আর এন রবি)। সংবিধান প্রদত্ত বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ভেঙে দিয়ে শাসনের রাশ নিজের হাতে তুলে নিলেন তিনি।

কেন এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় স্পষ্ট হওয়ার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে, তিনি এখনই ইস্তফা দিচ্ছেন না। তাঁর দাবি ছিল, এই হার ‘ষড়যন্ত্রের’ ফল। কিন্তু সংবিধানের ১৬৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো মাত্রই মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। দীর্ঘ টালবাহানার পর রাজ্যপাল বারবার তাঁকে ইস্তফা দিতে অনুরোধ করলেও মমতা তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাজভবন থেকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ আসে।

মধ্যরাতে নবান্নের নিয়ন্ত্রণ

সূত্রের খবর, রাজ্যপাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যতদিন না নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা শপথ নিচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে রাজ্যপালই সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী থাকবেন। নবান্নে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে এবং সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের আদান-প্রদান সরাসরি রাজভবনের নির্দেশে হবে বলে জানানো হয়েছে।

রাজ্যপালের কড়া বার্তা

রাজভবন থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাংলায় সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এই পদক্ষেপের পর থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। একদিকে বিজেপি একে ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে আখ্যা দিলেও, তৃণমূল শিবির একে ‘গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে অপদস্থ করার চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছে।

এখন কী হতে চলেছে?

আপাতত রাজ্যপালের শাসনে চলে গেল পশ্চিমবঙ্গ। খুব শীঘ্রই নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতার সঙ্গে কথা বলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। তবে মমতার এই জেদ এবং রাজ্যপালের এই পাল্টা পদক্ষেপের ফলে বাংলার রাজপথ এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই পরিস্থিতিকে ‘অহংকারের পতন’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

বাংলার পরবর্তী শাসনকাল কোন পথে এগোবে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। আপাতত নবান্নের দখল কার হাতে থাকবে— দিদি না কি রাজ্যপাল— সেই লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটল রাজভবনের এক কলমের খোঁচায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy