‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে অটল! বিদেশ সফরের শুরুতেই কূটনৈতিক চাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। তবে আন্তর্জাতিক মহলের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত কিংবা চিন নয়, নিজের প্রথম গন্তব্য হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন মালয়েশিয়াকে। আগামী ২১-২২ জুন কুয়ালালামপুর সফর করবেন তিনি। ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে এই সফর পরিকল্পনা করেছে।

বর্তমান আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং চিন-ভারতের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতার কথা মাথায় রেখেই মালয়েশিয়াকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি বজায় রেখে কোনো বিশেষ ব্লকের ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ার ইমেজ এড়াতেই তারেক রহমানের এই কূটনৈতিক চাল। মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির পাশাপাশি এই সফরের নেপথ্যে ভারত ও চিনের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিও স্পষ্ট।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক ফের মজবুত হচ্ছে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাঠানো আমন্ত্রণের চিঠি তারেকের হাতে পৌঁছানো হয়েছিল। তবে ভারতের সীমান্তে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং বৃহত্তর স্বার্থে ভারত সফরের আগে তারেক রহমান কিছুটা সময় নিতে চেয়েছেন বলেই খবর।

মালয়েশিয়া সফরের ঠিক পরেই চিনে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। বাংলাদেশে চিনের বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। তিস্তা জলবিদ্যুৎ ও জলবণ্টন চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চিনের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানও চিন সফর করেছিলেন। সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের এই বিদেশ সফর বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy