বর্মা থেকে বলাগড়—হুগলিতে অশান্তির আগুন! ১৯ জন শ্রীঘরে, পুলিশের কড়া পাহারায় ভোট-প্রস্তুতি

লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হুগলির গোঘাট। সোমবার বিজেপির প্রচার মিছিলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে বর্মা এলাকা। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার সকাল থেকে গোটা এলাকা থমথমে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাড়ার অলিগলিতে জওয়ানদের টহলদারিতে কার্যত জনশূন্য রাস্তাঘাট। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে সোমবার রাতভর তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সকালে, যখন আরামবাগের বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার বর্মা গ্রামে প্রচারে যান। অভিযোগ, মিছিল গ্রামে ঢোকা মাত্রই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। বিজেপি প্রার্থীর দাবি, “নির্দিষ্ট রুটে প্রচার চলাকালীন সাত-আটটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আমাদের কর্মীদের ওপর ‘জেহাদি’ কায়দায় হামলা চালানো হয়েছে।” সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী রক্তাক্ত হন, যাদের ৫ কিলোমিটার দূরের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

অন্যদিকে, তৃণমূলের পালটা অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার পথে আরামবাগের বিদায়ী সাংসদ মিতালি বাগের গাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায় বিজেপি কর্মীরা। লাঠি ও পাথর দিয়ে সাংসদের গাড়ির কাচ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, সাংসদের গাড়িতে হামলার ঘটনায় ৩ জন বিজেপি কর্মীকে এবং সংঘর্ষের ঘটনায় ১৬ জন তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শান্তি ফেরাতে সক্রিয় নির্বাচন কমিশন হলেও অশান্তির আঁচ ছড়াচ্ছে হুগলির অন্যান্য প্রান্তেও। বলাগড়ের সোমরা বালিগুড়ি এলাকাতেও সোমবার রাতে উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সঞ্জিত সরকারের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও তৃণমূলের দাবি, বিজেপি কর্মীরা এলাকায় টাকা বিলি করছিল, যা বাধা দিতেই এই জনরোষ। ভোটের ঠিক আগে এই দফায় দফায় সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বর্তমানে গোঘাটের বর্মা গ্রাম কার্যত নিস্তব্ধ, শুধুমাত্র বুটের শব্দ আর পুলিশের সাইরেন শোনা যাচ্ছে সেখানে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy