হরিয়ানার বাহাদুরগড় রেল স্টেশন থেকে হারিয়ে যাওয়া এক ১৫ বছর বয়সি নাবালককে আটকে রেখে জোর করে শিশু শ্রমিক হিসেবে খাটানোর অভিযোগে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত অনিল হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের একাধিক ডেয়ারি ফার্মের মালিক। গত বছরের আগস্ট মাস থেকে চলা দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগর থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর, যখন বিহারের কিষাণগঞ্জ থেকে এক নাবালক তার বন্ধুদের সঙ্গে কাজের সন্ধানে হরিয়ানায় আসে। বাহাদুরগড় স্টেশনে বন্ধুদের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে অনিল তাকে নিজের ডেরায় নিয়ে যায়। সেখানে নিজের ডেয়ারি ফার্মে ওই কিশোরকে দিয়ে দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খাটাত সে। এমনকি মেশিনে পশুখাদ্য কাটার মতো বিপজ্জনক কাজ করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয় ওই নাবালক।
গত আগস্টে কোনোক্রমে ওই নরক থেকে পালিয়ে হরিয়ানার নুহতে পৌঁছায় সে। সেখানে এক সহৃদয় শিক্ষকের সহায়তায় চিকিৎসা করিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় কিশোরটি। শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় সে এতটাই বিপর্যস্ত ছিল যে প্রথমদিকে তার বয়ান রেকর্ড করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশে পুনরায় তার বয়ান নেওয়া হয় এবং পুলিশ সুপার নিকিতা গেহলটের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।
অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশ গত চার মাস ধরে সোনিপথ, পানিপথ, রোহতক এবং বাহাদুরগড় সহ প্রায় ২০০টি এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালায়। দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন গোপন আস্তানাতেও হানা দেওয়া হয়। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে সাফল্য পায় পুলিশ। চাইল্ড লেবার অ্যাক্ট-সহ একাধিক কড়া ধারায় মামলা রুজু করে অভিযুক্ত অনিলকে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।