বদলি নাকি ষড়যন্ত্র? মমতার আইএএস-আইপিএস-দের ভিনরাজ্যে পাঠাতেই কমিশনের ওপর ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট!

লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। রাজ্যের একাধিক আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিককে রাতারাতি বদলি করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলায় আজ চাঞ্চল্যকর দাবি করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, এই মামলাটি আদতে একটি ‘ছদ্মবেশ’ বা সাধারণ আইনি আবরণের আড়ালে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।

ভোটের ডঙ্কা বাজতেই নির্বাচন কমিশন বাংলার মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজি) এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার সহ রাজ্য প্রশাসনের একঝাঁক শীর্ষ কর্তাকে সরিয়ে দিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, রাত ১২টার সময় চিঠি পাঠিয়ে মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। শুধু বদলিই নয়, রাজ্যের প্রভাবশালী একাধিক আইএএস-আইপিএস আধিকারিককে ভিনরাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি চলাকালীন কমিশনের আইনজীবী সওয়াল করেন যে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই আধিকারিকদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাল্টা যুক্তিতে বলা হয়েছে, এভাবে মাঝরাতে চিঠি পাঠিয়ে বা হুটহাট ভিনরাজ্যে পাঠিয়ে দিলে রাজ্যের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা নেমে আসবে। কমিশনের পাল্টা জবাব, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকে এবং এই আইনি লড়াইটি মূলত কমিশনের ক্ষমতাকে খর্ব করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy