ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি (Interim Trade Deal) চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াটি বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়ল। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সেই সফর আপাতত স্থগিত করেছে ভারত। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায় এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পালটা ১০% বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণায় তৈরি হওয়া ধোঁয়াশাই এই স্থগিতাদেশের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায়ে জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশের ওপর যে বিশাল পরিমাণ ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা শুল্ক চাপিয়েছিলেন, তা আইনত অবৈধ। এই রায়ের ফলে ভারতের ওপর থেকে অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক সরে যাওয়ার কথা থাকলেও, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প ‘সেকশন ১২২’ প্রয়োগ করে বিশ্বের সমস্ত দেশের জন্য নতুন করে ১০% শুল্ক চালুর নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত আগে যে ১৮% শুল্ক হারে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল, তার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, ভারত সরকার এখন এই নতুন ১০% শুল্ক কাঠামোর প্রভাব খতিয়ে দেখছে। থিঙ্ক ট্যাঙ্কদের মতে, যদি আমেরিকা সমস্ত দেশের ওপর ১০% শুল্ক চাপায়, তবে ভারতের জন্য আলাদা করে বড় কোনো সুবিধা থাকবে কি না, তা নিয়ে পুনরায় আলোচনার প্রয়োজন আছে। আগে ঠিক হয়েছিল ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কিনবে এবং বিনিময়ে ছাড় পাবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হওয়ায় দিল্লি ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ বা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী আলোচনার তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। ট্রাম্পের এই অস্থির শুল্ক নীতি ২০২৬-এর ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্কের সমীকরণকে যে বেশ জটিল করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।